‘তৃণমূলের গুন্ডারা জেলে যাবে, নয়তো উপরে যাবে’ প্রচারে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ রাজনাথের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রচারে গিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের নেতাদের। এবার সাঁইথিয়া ও নানুরের জনসভা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করে তীব্র মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক।
এদিন সাঁইথিয়ার সভামঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, ‘যেখানে বিনিয়োগকারীরা ছিলেন, আপনাদের উন্নতির সুযোগ ছিল, সেখানে গুন্ডারা কী জানি কী করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে যে দুর্নীতি বেড়েছে, এই কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাঁর কথায়, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের গুণ্ডারা হয় জেলে যাবে, নয়তো উপরে যাবে।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজনাথের ‘উপরে চলে যাওয়ার’ এই বার্তা আসলে অপরাধীদের এনকাউন্টারেরই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। নির্বাচনের ঠিক মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখ থেকে এমন চরমপন্থী হুঁশিয়ারি নিয়ে বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যকে তৃণমূলের তরফে ‘হুমকির রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
এর আগে প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সকলেই এই একই সুরে বক্তব্য রেখেছিলেন। ভোটের আগেই অপরাধীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানও তাঁরা। যোগী আদিত্যনাথের মুখে শোনা গিয়েছিল কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, যেমন ‘বুলডোজার’ অভিযানের প্রসঙ্গ।
আবার নানুরের সভায় রাজনাথ তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাংলা ভাষায় স্লোগান তুলে বলেছেন, ‘জোড়া ঘাসফুল হবে ছারখার। দুর্নীতি থাকবে না আর। ফুটবে এবার পদ্মফুল, এক নতুন বাংলা গড়বে ফুল।’ আবার তৃণমূলের ‘টিএমসি’ নামের এক নতুন ব্যাখ্যাও এদিনের সভা থেকে তুলে ধরেন রাজনাথ। তিনি বলেছেন, ‘তৃণমূল মানে হল ‘টোটাল মিসরুল অ্যান্ড করাপশন।’
তাঁর দাবি, রাজ্যের ‘মা-মাটি-মানুষ’ আজ তৃণমূলের হাতে চরমভাবে বঞ্চিত। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু থেকে শুরু করে তোষণনীতি এবং নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মমতা সরকারকে তুলোধনা করে তিনি বলেছেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে তৃণমূল শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের ক্ষতি করছে। এই সরকারের অপশাসনের কারণেই বাংলার মেধাবী যুবকদের আজ কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে।’
নারীদের সুরক্ষা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘এ রাজ্যে মহিলারা আজ সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত।’ তাঁর আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বাংলায় এক নতুন সকাল আসবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বাঁচতে পারবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের সময় এই ধরনের আক্রমণাত্মক ভাষণ নতুন নয়, তবে এর প্রভাব ভোটারদের উপর কতটা পড়বে, সেটাই দেখার। একদিকে শাসকদলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি–এ সবই ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।