সংসদে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার জন্য লোকসভার আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। বিলটি পাশ না হওয়ায় সরকারি প্ল্যাটফর্মে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে মহিলাবিরোধী তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মোদী। যার জেরে বিরোধীরা আবার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এই নিয়ে জাতীয় স্তরে তীব্র বাদানুবাদের মধ্যে মঙ্গলবার মহিলা রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে এমন এক মন্তব্য করে বসলেন বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব, যে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
মঙ্গলবার, এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাপ্পু যাদব দাবি করেন, পুরুষ নেতাদের সঙ্গে আপস না করে রাজনীতিতে সফল হতে পারেন না মহিলারা। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা থেকে ভারত, সর্বত্র রাজনীতিতে মহিলাদের শোষণ করা হচ্ছে। নেতাদের শোওয়ার ঘরে না গেলে ৯০ শতাংশ মহিলার পক্ষে রাজনীতিতে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।’
বিহারের এই পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদের এ হেন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে BJP। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা লিখেছেন, ‘দেশ যখন নারীশক্তির উত্থান চাইছে, তখন কংগ্রেস সমর্থিত এক সাংসদের এই মানসিকতা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ অন্যদিকে, ‘টাইমস নাও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে BJP নেত্রী চারু প্রজ্ঞা, পাপ্পুকে সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। একাংশ মনে করছেন, একজন নির্বাচিত সাংসদের মুখে মহিলা রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে এহেন মন্তব্য অত্যন্ত কুরুচিকর। এতে গণতান্ত্রিক পরিসরে মহিলাদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হলো।
বিশ্লেষকদের আরও এক অংশ অবশ্য মনে করছেন, পাপ্পু মন্তব্য চমকে দেওয়ার মতো হলেও, এটাই বাস্তব ছবি। গোটা বিশ্বেই মহিলা রাজনীতিবিদদের প্রতি পদক্ষেপে থাকে কাঁটা, টেনে ধরা হয় পিছন থেকে। তবে এই অংশের আশঙ্কা, ৫ রাজ্যের নির্বাচন যখন চলছে, সেই সময়ে বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করতে পারে BJP।