পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে টালমাটাল ইরানের হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য। তার জেরে প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়। মাছের আমদানি এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় এখনও পর্যন্ত ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি টাকা, এমনটাই জানিয়েছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।
প্রায় মাসদুয়েক ধরে যুদ্ধ চলছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকা লড়াইয়ের প্রভাব পড়ছে বাংলার হেঁশেলের। মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন ওমান, কাতার, ভিয়েতনাম, মায়ানমার-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে পমফ্রেট, পাঙ্গাস, চাঁদা এবং খয়রা জাতীয় সামুদ্রিক মাছ আমদানি করা হয়। আবার এখান থেকে চিংড়ি, কাতলা, রুই, পাবদা, চিতল এবং আরট্যাংরা জাতীয় মাছ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। ব্রিটেন ও আমেরিকাতেও রপ্তানি করা হয়।
যুদ্ধের কারণে ইরান হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় আটকে পড়েছে বহু মালবাহী জাহাজ। ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কলকাতার সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, যুদ্ধে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেই কারণে মাছের আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারকেরা সব অর্ডার বাতিল করেছেন। তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৭০ জন এক্সপোর্টার এবং মুম্বই ও গুজরাটের ১০০-রও বেশি এক্সপোর্টার এখন মাছ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। কমপক্ষে ৫০ কন্টেনার মাছের অর্ডার বাতিল হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
উপসাগরীয় যুদ্ধ নিয়ে ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক প্রথম রাউন্ডে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানে দ্বিতীয় রাউন্ড শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা। সেটা কবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কবে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরে আসবে অথবা কবে ইরান ফের হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তাই মাছ ব্যবসায়ীরা তাকিয়ে আছেন কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় সেদিকে।