ইভিএম নিয়ে বার বার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বার বার নানা নথি দেখিয়ে এই অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি কি আদৌ সত্যি? EVM-এ আসলে কী কী থাকে? কী কী কাজ করা যায়? খোঁজ নিল এই সময় অনলাইন। উত্তর দিলেন টেক ও সাইবার বিশেষজ্ঞ কিঞ্জল ঘোষ।
EVM কখনও হ্যাক করা যায় না, স্পষ্ট জানাচ্ছেন কিঞ্জল ঘোষ। কারণ মেশিন হ্যাক করতে গেলে মেশিন পর্যন্ত পৌঁছতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও কানেক্টিভিটি নেই। অর্থাৎ ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই বা এমন কোনওভাবে এই মেশিন কোনও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত নয়।
যে কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্রের ক্ষেত্রে ৩টি প্রধান জিনিস থাকে। হার্ডওয়্যার, ফার্মওয়্যার, সফটওয়্যার। কিঞ্জল ঘোষ বলছেন, ‘চিপের মধ্যে যেটা থাকে সেটা ফার্মওয়্যার, এটাই সবটা একসুতোয় গেঁথে রাখে। আর সফটওয়্যার হলো সেটি, যেটা মেশিন চালাতে গেলে আমরা চোখে দেখি। ভিভিপ্যাট ছাপানো, রেজ়াল্টের সময় ডিসপ্লে-তে দেখানো এগুলো সফটওয়্যারের কামাল।’ কিন্তু সফটওয়্যার দিয়ে কোনওরকম ম্যানিপুলেশন করা সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন কিঞ্জল ঘোষ।
কিন্তু ফার্মওয়্যার দিয়ে সম্ভব হলেও হতে পারে বলে তাঁর মত। কারণ মানুষই ইনস্ট্রাকশন দিয়ে প্রোগ্রাম লিখছে। তিনি বলছেন, ‘ধরা যাক, কোনও কমান্ড দেওয়া হলো। ৫টার পরে যে ভোট পড়বে, তার প্রতি তিনটি ভোটের একটি X পার্টির কাছে পড়বে। কোনও একটি বিধানসভার ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দিষ্ট মার্জিন পেতে, হিসেব করে কমান্ড লিখে রাখা সম্ভব।’
কিন্তু তত্ত্বগত ভাবে এটা করা গেলেও, প্র্যাকটিক্যালি এটা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন কিঞ্জল ঘোষ। তার কারণ কী? তিনি বলছেন, ‘বার বার দেখা হয় এই ব্যবস্থাটি ঠিক আছে কিনা। প্রযুক্তিবিদেরা এটি চেক করেন। সারা বিশ্বে কাজ করা সংস্থা (CERT, STQC- ইত্যাদি) এই গোটা প্রক্রিয়া চেক করে দেখে কোনওরকম ডেটা লিকেজ বা ম্যানিপুলেশনের ঝুঁকি আছে কিনা।’ তিনি জানাচ্ছেন, সব পক্ষ থাকে চেকিংয়ে। সব ঠিক থাকলে সেটা ইভিএম-এ দেওয়া হয়।
প্র্যাকটিকালি এই বিষয়টি কতটা সম্ভব তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাইবার ও টেক বিশেষজ্ঞ কিঞ্জল ঘোষ।
রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজ়ার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ইভিএম হ্যাক করা কোনওভাবেই পসিবল নয়।