মঙ্গলবার বড়বাজারের নির্বাচনী সভা থেকে কমিশনের জারি করা বাইক সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, ‘এগুলি কী ধরনের ফরমান? মানুষ বাড়ি ফিরবে কী করে?’ নির্বাচনের আগে বাইক চালানোয় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরব তৃণমূল নেত্রী।
এ দিনই ভোটের দু’দিন আগে এবং ভোটের দিন মোটর বাইক ব্যবহার নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের দু’দিন আগে থেকে ভোটের দিন পযর্ন্ত সন্ধে ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটর বাইক চালানো যাবে না। তবে কোনও ইমার্জেন্সি পরিস্থিতি যেমন মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি বা পারিবারিক কোনও অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। সন্ধের ৬টার পর বাইক না চালানোর এই নির্দেশিকার ফলে অসুবিধায় পড়বেন অনেক মানুষ। নেত্রীর দাবি, বিশেষত কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পথে সমস্যার মুখে পড়বেন বহু চাকুরিজীবী।
বড়বাজারের সভা থেকে কমিশনের এই নির্দেশিকার সমালোচনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ইলেকশনের ২৪ ঘণ্টা আগে কেউ বাইক চড়তে পারবে না। মানেটা কী! বাইক না চাপলে বাড়ি ফিরবে কী করে? অনেকে চাকরি করে। বহু দূরে তাঁদের বাড়ি। তা হলে তাঁরা যাতায়াত করবে কী করে! এটা কী ফরমান। একেবারে বদমাইশি চলছে। জুলুম চলছে।’
এখানেই শেষ নয়, মঙ্গলবার জগদ্দলের সভা থেকেও কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরব হন। গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শোনা যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মুখে। মমতার কথায়, ‘আমার কেন্দ্রের তিনটে ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে, সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে! তার মধ্যে ৭৭, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড আছে। সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে ছাপ্পা করাবে।’ এই প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে নেত্রী বলেন, ‘আমরাও চারদিকে লোক রাখব। যারা ভাবছেন ছাপ্পা করবেন, শুনে রাখুন— আপনাদের যদি ৫০টা ক্যামেরা থাকে, চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা আমাদের ক্যামেরা। সব লক্ষ্য রাখব।’
এদিন একাধিক নির্বাচনী সভা থেকে প্রশাসনের কাছে পক্ষপাতিত্ব ছাড়া কাজ করার অনুরোধ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘ যাঁরা বিজেপির হয়ে দালালি করছেন, তাঁদের তৃণমূলকে সমর্থন করার জন্য বলছি না। সংযত থাকুন। শুধু এক পক্ষের হয়ে কাজ করবেন না, নিরপেক্ষ থাকুন।’