• বিক্রমকে ফোনে না পেয়ে পাশের দোকানে লাগাতার ফোন, খ্যাতির বিড়ম্বনা বুঝছেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা

    বিক্রমকুমার সাউ কি লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ুর কথা জানেন? তা জানা নেই। কিন্তু রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আচমকা ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার পরে মুহূর্তের মধ্য়ে ভাইরাল হয়ে ওঠা বিক্রমকে মঙ্গলবার সারাদিন যা বারবার বলতে শোনা গেল, তার সঙ্গে ‘সোনার কেল্লা’র জটায়ুর বোধহয় কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া গেল। ফেলুদা সিরিজ়ের প্রথম ছবিতে কুলির উদ্দেশে জটায়ুর সেই আইকনিক সংলাপ ‘তাং মত করো’র মতো এ দিন বিক্রমকে বারবার বলতে শোনা গেল, ‘ভিডিয়ো করুন, কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।’ খ্যাতির বিড়ম্বনার জেরে রবিবার সন্ধের পর থেকে সোমবার প্রায় গোটা দিন মোবাইল বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল যে বিক্রমকে, মঙ্গলবার তাঁকে কেন বারবার এমনটা বলতে হলো? খোঁজ নিল এই সময় অনলাইন।

    সাংবাদিক, ব্লগারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এ বার হাঁপিয়ে উঠেছেন বিক্রম। রবিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়াম থেকে জনসভা শেষ করে হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পথে শহরের কলেজ মোড়ে গাড়ি থেকে নেমে বিক্রমকুমার সাউয়ের দোকানে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঘটনার তিন দিনের মাথাতেও জনপ্রিয়তা তুঙ্গে বিক্রমের।

    মঙ্গলবার সকাল থেকে দেখা গেল তাঁর দোকানে ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিড় জমেছে ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের জন্য় কনটেন্ট তৈরিতে ব্যস্ত ভ্লগারদের। অতঃপর ‘রণকৌশল’ কিছুটা বদলাতে হয়েছে ব্য়বসায়ী বিক্রমকে। ভিড় যে তিনি এড়াতে পারবেন না, তা বুঝে গিয়েছিলেন রবিবারই।

    সোমবার সে কারণেই মোবাইল বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু এ দিনও যে ভিড় উপচে পড়বে, তা হয়তো সে ভাবে আঁচ করতে পারেননি। টের পেলেন বলেই হয়তো এ হেন ‘ক্রাউড ম্য়ানেজমেন্ট স্ট্র্য়াটেজি’: ‘ভিডিয়ো করুন, কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।’

    বিক্রমের দোকানের ভিডিয়ো ও ঝালমুড়ি বানানোর কৌশল ক্যামেরাবন্দি করার পাশাপাশি মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার মুহূর্তের কথা জানার জন্য ভ্লগাররা এ দিন একের পরে এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন বিক্রমের দিকে। আর তাতেই কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলে উঠেছেন, ‘নিজের মতো করে ভিডিয়ো বানান, কিন্তু প্রশ্ন করবেন না। সে দিন থেকে এক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না।’

    ছেলেকে দোকানে সাহায্য করতে আসা বিক্রমের বাবা উত্তম ও তাঁর মা সুনীতাদেবী দু’জনে এক সুরেই বলেন, ‘সকাল থেকেই ভিডিয়ো করে মানুষজন বিরক্ত করে চলেছে।’

    ঝাড়গ্রাম শালবনির রাজীব মাহাতো ও তাঁর তিন বন্ধু মিলে নিজের মতো কনটেন্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। রাজীব বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ঝালমুড়ি ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। তাই বন্ধুরা মিলে ঝালমুড়ি দোকানের ভ্লগ তৈরি করতে এসেছি। ভিডিয়ো করতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কিছু জিজ্ঞাসা করলে কিছুই বলতে চাইছেন না ঝালমুড়ি বিক্রেতা। তবে ভ্লগ করতে এসে ঝালমুড়ি খেয়ে দেখলাম। আহা… খুবই ভালো স্বাদের ঝাড়মুড়ি তৈরি করেন বিক্রম।’

    এ দিকে, নাগাড়ে ফোন আসায় এ দিনও তাঁর মোবাইল বন্ধই করে রেখেছেন বিক্রম। তাঁর পাশের দোকানের মাংস বিক্রেতার মোবাইল নম্বরটি দোকানের সাইনবোর্ডের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিক্রমের সন্ধানে ফোন আসছে মাংস বিক্রেতা সুশান্ত গরাইয়ের কাছেও।

    সুশান্ত বলেন, ‘বিক্রমের খোঁজে বহু মানুষ ফোন করছেন। আর জানতে চাইছেন, প্রধানমন্ত্রী কী বললেন তাঁকে। আবার দোকানের ঠিকানাও জানতে চাইছেন। বিরক্ত হয়ে আমিও অজানা নম্বর থেকে আসা ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছি।’ বিক্রমের মতো সুশান্তও মনে মনে তা হলে বলছেন জটায়ুর সেই কাল্ট সংলাপ: ‘তাং মত করো, তাং মত করো।’

  • Link to this news (এই সময়)