দ্বিতীয় দফার ভোটে ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের ভোট পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল আনছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রথম দফার ভোটের আগের দিন বুধবার ওই প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছবে এবং বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট পরিচালনা পর্যবেক্ষণ করবে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও তাঁদের যাওয়ার কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভোটপর্ব অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনায়, যেখানে ৫০৭ কোম্পানি থাকবে।
প্রথম দফাতেও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩১৬ কোম্পানি বাহিনী রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪০ কোম্পানি মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় এবং ৭৬ কোম্পানি জঙ্গিপুরে মোতায়েন ছিল।
দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা যেমন বারাসতে ১১২ কোম্পানি, বনগাঁয় ৬২, বসিরহাটে ১২৩ এবং ব্যারাকপুরে ১৬০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। বিধাননগরে থাকবে ৫০ কোম্পানি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১ এবং ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ এবং হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১১০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ১৫৮ এবং রানাঘাটে ১২৭ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। হুগলির চন্দননগরে ৮৩ এবং গ্রামীণ এলাকায় ২৩৪ কোম্পানি বাহিনী দায়িত্বে থাকবে। পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি বুথে মোট ২৬০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর এলাকায় ১৩ কোম্পানি বাহিনী থাকবে।
শুধু তাই নয়, রাজধানী কলকাতাতেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ৫,১৭২টি বুথে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন জওয়ান রাখা বাধ্যতামূলক। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেই এই বিশাল নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।