‘ভোট নেই, কলকাতায় মদের দোকান বন্ধ করতে বলিনি’, দায় এক্সাইজ কমিশনারের কাঁধে ঠেললেন মনোজ
প্রতিদিন | ২২ এপ্রিল ২০২৬
২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন। তার তিনদিন আগে গোটা রাজ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে মদের দোকান। যে এলাকায় ভোট নেই, কেন সেখানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম লাগু করা হল, তা নিয়ে চর্চাও চলছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবিষয়ে কার্যত বিষ্ময় প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তাঁর দাবি, যে এলাকায় ভোট সেখানে মদের দোকান বন্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু গোটা বাংলায় কেন বন্ধ করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। ঘটনার দায় এক্সাইজ কমিশনারের কাঁধেই ঠেললেন মনোজ।
ঠিক কী বলেছেন মনোজ আগরওয়াল? এদিন তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিয়ম হল, যেখানে ভোট রয়েছে সেখানে ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ করতে হবে। প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে। সেখানে আজ থেকে মদের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।” এতেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে কেন বন্ধ করা হয়েছে মদের দোকান? এতেই একরাশ বিষ্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমিও তো এটা শুনে অবাক হচ্ছি। আমি এক্সাইজ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করব কেন তিনি এই নির্দেশ জারি করেছেন?” অর্থাৎ তাঁর দাবি, এই নির্দেশ তাঁর নয়। যদিও নিয়ম অনুযায়ী এক্সাইজ কমিশনারের ক্ষমতা রয়েছে চাইলে যে কোনও এলাকায় মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার।
উল্লেখ্য, ‘ছাব্বিশের নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) যুদ্ধে’ একের পর এক বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে, এমনটাই দাবি নির্বাচন কমিশনের। প্রথম দফার তিনদিন ও দ্বিতীয় দফার ৯ দিন আগেই রাজ্যের সব মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও কমিশন সাধারণত ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বার ও মদের দোকান বন্ধ করে। এবার সেই নিয়মে বদল করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, গোটা রাজ্যে প্রথম দফায় ২০-২৩ এপ্রিল বন্ধ মদের দোকান ও পানশালা। দ্বিতীয় দফায় ২৫-২৯ এপ্রিল বন্ধ থাকবে মদের দোকান ও পানশালা। ৪ মে ভোটগণনার দিন সারাদিন বন্ধ মদের দোকান ও পানশালা।