দু’দিন পরেই রাজ্যে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। আর তার আগে নজিরবিহীন কড়াকড়ির পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। ৯৬ ঘণ্টা আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে মদের দোকান। এমনকী যেখানে ২৩ তারিখ ভোট নেই, সেখানেও (যদিও কমিশনের দাবি এটা একান্তই আবগারি দপ্তরের সিদ্ধান্ত)। বন্ধ মোটরবাইক নিয়ে চলাফেরাও। এ বার সরাসরি নাগরিকদের অন্দরমহলে নজরদারি শুরু করল ECI। কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট চলাকালীন রাজ্যের বহুতল আবাসনগুলিতে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটাররাই থাকতে পারবেন। কোনও বহিরাগত, এমনকী আত্মীয়-স্বজনের থাকাতেও জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
মঙ্গলবার, প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভোটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই চরম পদক্ষেপ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ বার অনেক আবাসনেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্র (Polling Booth) রয়েছে। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। সেখানে ভোটের সময়ে ‘বহিরাগত’দের উপস্থিতি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শুধুমাত্র ওই বিধানসভা কেন্দ্রের নথিভুক্ত ভোটাররাই সেখানে থাকতে পারবেন।
ভোট প্রক্রিয়ায় বহিরাগতদের প্রভাব রুখতে এবং আইনশৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করা হলেও, এই নির্দেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে এমন কড়াকড়ি জরুরি।
তবে আর এক অংশের অভিযোগ, ভোটের নামে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অযথা বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, ‘পরিবারের কেউ ভিন রাজ্য বা শহর থেকে এলে তাঁরা কি এখন হোটেলে থাকবেন?’ প্রশাসন সূত্রে এই উদ্বেগের কোনও সদর্থক উত্তর মেলেনি। তাঁদের সাফ কথা, নির্বাচন চলাকালীন এই নিয়ম মেনে চলতেই হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন মরিয়া হলেও, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের নামান্তর। ইতিমধ্যেই পুলিশকে প্রতিটি বহুতল আবাসনের গেস্ট রেজিস্টার পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এখন দেখার, দুই দফার এই ভোট পর্বে কমিশনের এই ‘লৌহবর্ম’ কতটা কার্যকর হয়। বাংলার ভোট কতটা সুষ্ঠু ও অবাধ হয়।