প্রথম দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দু’দিন আগে বাইক (Bike) নিয়ে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। বলা হয়েছে, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাইক চালানো সম্পূর্ণ বন্ধ, অন্য সময়ে ছাড় মিললেন পিছনে কাউকে বসাতে পারবেন না চালক। কিন্তু বাইকের মতো অতিপ্রয়োজনীয় বাহনকে কেন এমন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে বেঁধে ফেলা হলো? নির্দেশিকা জারির পর থেকে এই প্রশ্নই তুলছেন রাজ্যবাসী। অবশেষে মঙ্গলবার সেই নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাঁর কথায়, ‘ভোটের মুখে বাইক বাহিনীর দৌরাত্মে রাশ টানতেই এই সিদ্ধান্ত।’
ভোটের আগে জেলায় জেলায় সফর করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সেই সময়ে অনেক ভোটারই বাইক বাহিনীর দাপট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁর কাছে। এমন দাবি করে মনোজ বলেন, ‘বাইকে চেপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। এই জিনিস আমরা চলতে দেব না। বন্ধ করবই।’ তবে বাইক নিয়ে অনেকেই অফিস-কাছাড়িতে যান। যাওয়ার পথে কোনও বন্ধু বা সহকর্মীকে তুলে নেন কেউ কেউ। তবে ভোটের মুখে বাইক বাহিনীর দৌরাত্ম রুখতে আপাতত সে সব বন্ধ।
বাইক অনেকের কাছে রুটিরুজিও। বিশেষ করে যাঁরা র্যাপিডো চালান। তাঁদের তো পিছনে যাত্রী বসাতেই হবে। সেটাই কাজ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী অবশ্য র্যাপিডো চালকদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মনোজের কথায়, ‘র্যাপিডো করে কেউ যেতেই পারেন। সবাই তো আর বাইকে চেপে বুথে যাবে না। কেউ হাসপাতালে যাবে, কেউ অন্য কাজে যাবে। তাঁদের কোনও অসুবিধা হবে না।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রথম দফার ভোটে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের টহল দেওয়ার জন্য রয়েছে গাডি়। কিন্তু চারচাকা গাড়ি নিয়ে সব জায়গায় ঢোকা সম্ভব নয়। বিশেষ করে সরু গলিতে। সেই জন্য কমিশনের কাছে বাইক চেয়েছে পুলিশ এবং CAPF। মনোজ বলেন, ‘রিকুইজিশন পাঠাতে বলা হয়েছে। আমরা পরিবহণ দপ্তরকে বলে বাইকের ব্যবস্থা করব।’ তাঁর কথায়, ‘অনেক সময়ে সরু গলি পেরিয়ে বুথে যেতে হয়। বাইক বাহিনী সেই সব গলি আটকে দেয়। এ বারে পুলিশ, CAPF-কে এসব দেখতে বলা হয়েছে।’ যাঁরা ভোটার নন, তাঁদের বুথের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে বাইক নিয়ে এই নির্দেশিকা জারি করে নির্বাচন কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, ভোটের দু’দিন আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে না। অবশ্য সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এই সময়ে পিছনে কাউকে বসানো যাবে না। চিকিৎসা, পারিবারিক কাজ বা অন্য জরুরি প্রয়োজনে অবশ্য ছাড় মিলবে। পাশাপাশি ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাইক চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ভোট দিতে যাওয়া বা জরুরি কাজের জন্যই মিলবে এই ছাড়। বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে চাইলে স্থানীয় থানা থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।