বৃহস্পতিবার নির্বাচন। তার আগেই বীরভূম জেলায় বড় ধাক্কা খেল হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-র দল। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দুই প্রার্থী যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তার পরেই হুমায়ুন কবীর এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলার মতো নির্বাচন বীরভূম (Birbhum) জেলাতেও। মঙ্গলবার শেষ হয়েছে ভোটের প্রচার। আর এই দিনেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) র দুই প্রার্থী এবং এক মহিলা নেত্রী যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress)। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাসন কেন্দ্রে প্রার্থী কাজল শেখের হাত ধরে তাঁরা যোগদান করেন তৃণমূলে।
মঙ্গলবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন নানুর বিধানসভার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রার্থী চিরন দাস এবং দুবরাজপুর বিধানসভার প্রার্থী শুভাশিস দাস। তাঁদের সঙ্গেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সিউড়ি বিধানসভার এজেইউপি-র পর্যবেক্ষক রুবিনা বিবি।
দুই প্রার্থীর অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল তাঁদের। একই সঙ্গে নির্বাচনে যে খরচ হবে তা দেওয়া প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। এই কথায় ভরসা করে নিজদের সম্পদ বিক্রি করে এবং বন্ধক দিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা করে খরচ করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, শেষ মুহূর্তে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন প্রতারণা করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে।
একই অভিযোগ রুবিনা বিবি। তাঁর দাবি, এক কোটি টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল তাঁদের। বিশ্বাস করে আম জনতা উন্নয়ন পার্টিতে গেলেও এখন বুঝতে পারছেন ভুল করেছেন তাঁরা। এই ভুল বুঝতে পেরেই তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। হুমায়ুনের দলে যোগ দেওয়া বেশির ভাগ নেতাই এখন সেখান থেকে সরে এসেছেন বলেও দাবি তাঁদের।
কাজল শেখেরও দাবি, বীরভূম জেলার ওই প্রার্থীদের এক কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সেই টাকা তিনি দেননি। যাঁরা এ দিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তাঁদের উপযুক্ত সম্মান দিয়ে জেলার উন্নয়নের কাজে লাগানো হবে বলেও জানিয়েছেন কাজল।
যদিও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বীরভূম জেলার বিজেপি (BJP) এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতারা।