• ভোটের আকাশে একদিনে সর্বোচ্চ ৬১ হেলিকপ্টার! বিঘ্নিত ফ্লাইট মুভমেন্টও
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • সুনন্দ ঘোষ

    বাংলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ফরফর করে উড়ে বেড়াচ্ছে হেলিকপ্টার। জনসভা লাগোয়া মাঠে গিয়ে নামছেন ভিআইপি–রা। গ্রামের বাচ্চারা ছুটছে তার নামা–ওঠা দেখতে। নাভিশ্বাস উঠছে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)–এর। এখনও পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ ৬১টি হেলিকপ্টারকে পথ দেখাতে হয়েছে কলকাতার এটিসি অফিসারদের। বাকি দিনগুলোয় গড়ে ৪০–৪৫টি হেলিকপ্টার উড়ে বেড়াচ্ছে। সূর্য ডোবার আগে তারা নেমে পড়ছে মাটিতে।

    দিল্লি–মুম্বই–বেঙ্গালুরুর তুলনায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট মুভমেন্ট কম। বেশিরভাগ দিন একটি হেলিকপ্টার মুভমেন্টও থাকে না। ভোট এলেই বদলে যায় চিত্রটা। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী–সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দল, হেমন্ত সরেন, যোগী আদিত্যনাথের মতো অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কঙ্গনা রনৌত, হেমা মালিনীর মতো বলিউড তারকারা তো রয়েইছেন। ভোটের সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কখনও ছোট বিমানে, বেশিরভাগ সময়ে হেলিকপ্টারে উড়ে বেড়াচ্ছেন। এ বার তো তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়া মুর্শিদাবাদের নেতা হুমায়ুন কবীরও হেলিকপ্টার ভাড়া করেছেন।

    কলকাতা বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে হেলিকপ্টার মুভমেন্ট। ১৮ এপ্রিল ৬১টা মুভমেন্ট হয়েছে। অন্য রাজ্য থেকে বিমানে চেপে শহরে আসা ভিআইপি–রা কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকেই হেলিকপ্টারে উড়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি হেলিকপ্টারের মুভমেন্ট নজরে রাখতে হচ্ছে কলকাতার এটিসি–কে। এর জন্য এটিসি–তে আলাদা করে সিনিয়র অভিজ্ঞ অফিসার পোস্টিং করা হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, দুর্গাপুর ও উত্তরবঙ্গে উড়ে বেড়ানো হেলিকপ্টার অন্ডাল ও বাগডোগরা বিমানবন্দরের এটিসি–র সঙ্গে একই ভাবে যোগাযোগ রেখে চলেছে।

    সূত্রের খবর, কলকাতা থেকে ওড়ার ৫০–৬০ নটিক্যাল মাইল (৯০ থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার) পর্যন্ত এই হেলিকপ্টারের সঙ্গে মৌখিক যোগাযোগ বা রেডিয়ো কমিউনিকেশন থাকছে এটিসি–র সঙ্গে। অন্ডাল ও বাগডোগরার ক্ষেত্রে সেটি প্রায় ৩০–৪০ নটিক্যাল মাইল। তারপরে হেলিকপ্টার নিজের মতো উড়ে গিয়ে নামছে গন্তব্যে। হেলিকপ্টার ভিএফআর (ভিসুয়াল ফ্লাইট রুলস) মেনে ওড়ে। যার অর্থ আকাশ একেবারে পরিষ্কার থাকলে, ককপিট থেকে চারপাশ এবং মাটি স্পষ্ট দেখা গেলে তবেই সে উড়তে পারে। ফলে, এটিসি–র সঙ্গে রেডিয়ো কমিউনিকেশন বিচ্ছিন্ন হলেও সে নিজের মতো রাস্তা দেখে গিয়ে নামছে। ব্যবহার করছে জিপিএস। তবে নামার পরে বাধ্যতামূলক ভাবে তা ফোন করে জানাতে হচ্ছে নিকটবর্তী এটিসি–কে। একই ভাবে টেক–অফ করার আগেও ফোনে এটিসি–কে ইনফর্ম করতে হচ্ছে। কোন হেলিকপ্টার (তার কল–সাইন সমেত) কখন, কোথা থেকে উড়ল, ক’টার সময়ে কোথায় গিয়ে নামল — তার বিস্তারিত তথ্য রাখতে হচ্ছে এটিসি–কে। এক এটিসি অফিসারের কথায়, ‘ওড়ার পরে আকাশ থেকে দুম করে কোনও হেলিকপ্টার হারিয়ে গেলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে তদন্তের ক্ষেত্রে এই সব তথ্য কাজে আসবে।’

    হেলিকপ্টার সাধারণত অনেক নীচ দিয়ে উড়ে বেড়ায়। মাটি থেকে ৫০০ ফুট আর সাড়ে ছ’হাজার ফুটের মধ্যে থাকে ওঠানামা করে। এটিসি অফিসারদের মতে, সেটা নির্ভর করছে গন্তব্যের দূরত্বের উপরে। কলকাতা থেকে উত্তর ২৪ পরগনার খড়দা গেলে ৫০০ ফুটের কাছাকাছি থাকছে। আবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট গেলে প্রায় পাঁচ হাজারের উপরে উঠে যাচ্ছে।

    এত হেলিকপ্টার মুভমেন্টের কারণে মাঝেমধ্যে ফ্লাইট মুভমেন্টও বিঘ্নিত হচ্ছে। কলকাতা বিমানবন্দরে হেলিকপ্টার টেক–অফ এবং ল্যান্ডিয়ের সময়ে হোল্ড করতে হচ্ছে যাত্রি–বিমানের টেক–অফ এবং ল্যান্ডিং। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর মতো ভিআইপি হেলিকপ্টার মুভমেন্টের সময়ে প্রোটোকল মেনে আটকে দেওয়া হচ্ছে অন্য বিমান ও হেলিকপ্টারকেও।

  • Link to this news (এই সময়)