• শিল্পী তরুণীর সঙ্গে স্বামীর লিভ টুগেদারে সায় স্ত্রীরও, চাপে ঘর ছাড়া তিন জনই
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: স্ত্রী, দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে সংসার ডোকরা শিল্পীর। সঙ্গে ডোকরা শিল্পী হিসেবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা। নিজের হাতে কাজের সঙ্গেই ওই তরুণ শিল্পী ডোকরার কাজের প্রশিক্ষণও দেন স্থানীয়দের। আর সেই সূত্রেই এক তরুণী ছাত্রীর সঙ্গে গড়ে ওঠে অন্তরঙ্গতা। এক সময়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে শিল্পী তরুণের বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন তরুণী। শিল্পীর স্ত্রীও মেনে নেন স্বামীর ‘বান্ধবী–সহযোগী’কে। কিন্তু এরই মধ্যে সেই তরুণীর কিছু আত্মীয় ও প্রতিবেশী প্রথমে হুমকি ও পরে হামলা চালান তরুণের পরিবারের উপরে। গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিন জনই বাড়ি ছাড়া। থানায় অভিযোগ করেও কোনও নিরাপত্তা না পেয়ে তাঁরা মামলা করেন হাইকোর্টে। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁদের যথাযথ নিরাপত্তা দিয়ে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। লিভ টুগেদারে থাকা তরুণীর যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তাও দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

    প্রায় দু’দশক আগে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানার গন্যা দড়িয়াপুরের তরুণের সঙ্গে বিয়ে হয় পাশের গ্রামের তরুণীর। তাঁদের দুই নাবালক সন্তান। পরিবার চলে ডোকরা শিল্পী তরুণের আয়ে। নিজের হাতের কাজের সঙ্গেই ওই তরুণ গ্রামের ছেলে–মেয়েদের ডোকরার প্রশিক্ষণ দেন। বছর তিনেক আগে কাজের সূত্রেই স্থানীয় এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তার কিছুদিন পর থেকে একই বাড়িতে থাকা–খাওয়া শুরু করেন তরুণী। স্ত্রীও মেনে নেন ওই তরুণীকে। কিন্তু প্রতিবেশী ও সমাজের মাতব্বরদের চাপে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। প্রথমে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে নিরাপত্তা চাইলেও না পেয়ে তিন জনই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হ‍ন। শেষে নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। তরুণের স্ত্রী মামলার আবেদনে জানিয়েছেন, স্বামীর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে ওই তরুণী ডোকরার কাজে নিজেকে যথেষ্ট দক্ষ প্রমাণ করেছেন। এখন তিন জন মিলেই কাজ চলে। এবং ওই তরুণীর দৌলতে কাজের অনেক অর্ডারও আসে। স্বামীর বান্ধবীকে বাড়িতে রাখায় কোনও আপত্তি নেই। ব্যবসার আয়ের টাকা সবাই পান।

    কিন্তু প্রতিববেশীদের মাতব্বরি ও নাক গলানোয় সুখের সংসারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ মামলাকারীদের। গত নভেম্বরে বাড়িতে হামলার পর থেকে তাঁরা বাড়ি ছাড়া। হাইকোর্টে পরিবারের আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সাবালিকা তরুণী বহুবার জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন। তার পরেও মাতব্বরদের অত্যাচারে তিন জন বাড়িতে থাকতে পারছেন না। প্রবল কষ্টে দিন কাটছে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা ও দুই নাবালক সন্তানের। ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় অর্থেরও টানাটানি দেখা দিয়েছে। রাজ্যের আইনজীবী জানান, পরিবারটিকে যাবতীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

  • Link to this news (এই সময়)