এই সময়: বালি পাচার মামলায় এ বার তলব করা হলো কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। ডাকা হয়েছে ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালকেও। আজ,বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁদের তলব করেছে ইডি। মাস কয়েক আগে বালি পাচার মামলায় ব্যবসায়ী অরুণ শরাফকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এমনিতেই ধৃত ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের সঙ্গে শান্তনুর আঁতাঁতে কী ভাবে জমি দখল করে রিয়েল এস্টেটের সাম্রাজ্য বিস্তার করা হয়েছে, কোর্টে তা জানিয়েছে ইডি। জমি ও রিয়েল এস্টেট সংস্থার সূত্রে প্রতারণার মামলায় গত রবিবার প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালান ইডির তদন্তকারীরা। পার্ক স্ট্রিটে তাঁর ছেলে সায়ন্তনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও চলে তল্লাশি। সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বাবা–ছেলে। এই মামলায় একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বেহালার ব্যবসায়ী জয়কে রবিবারই গ্রেপ্তার করেছে ইডি। এ সবের মধ্যে এ বার বালি পাচার মামলার তদন্তে কোমর বেঁধে নামল তারা।
শান্তনু ও সুনীলকে তলব করা হলেও অফিশিয়াল বিবৃতি দিয়ে এর কারণ জানায়নি ইডি। সূত্রের খবর, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য ও কিছু নথির বিষয়ে জানতে তাঁদের ডাকা হয়েছে। তবে দু’জন আদৌ আজ হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
কাল, বৃহস্পতিবার বাংলায় প্রথম দফার ভোট। তার ঠিক আগে ইডির তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনাও শুরু হয়েছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘(প্রতারণায়) তো উনি (শান্তনু) যুক্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালেক্টর উনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেই লুকিয়ে আছেন। ওঁর বাড়ির সামনে পার্টি অফিস আছে, সেখানে এসি চালিয়ে শুয়ে আছেন। মমতার বাড়িতে প্রতীক জৈনও আছেন সপরিবার। দুনিয়ার দুষ্কৃতীদের আশ্রয়স্থল মমতার কালীঘাটের বাড়ি।’ যদিও শুভেন্দুর বক্তব্যকে আমলই দিচ্ছে না তৃণমূল। দলের এক নেতা বলেন, ‘উনি মনগড়া কথা বলছেন। সব মিথ্যে, ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওঁর মন্তব্য নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না।’
এ দিকে সোমবারই ইডি জানিয়েছে, শান্তনু–সহ বেশ ক’জন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল জয়ের। তাঁদের মধ্যে এক ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এজেন্সি জানিয়েছে, পুলিশকর্তা হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে জয়কে জমি দখলে সুবিধে করে দিতেন শান্তনু। কলকাতার নানা প্রান্তে তিন ধরনের জমিকে টার্গেট করা হতো। প্রথমত, যার মালিক অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছেন বা মালিক ভিনরাজ্যেরই বাসিন্দা। দ্বিতীয়ত, যে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। তৃতীয়ত, যেখানে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে মালিকের ঝামেলা আছে। এ ধরনের জমি দখল করে পুলিশি ব্যবস্থার ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুখ বন্ধ রাখা হতো বলে অভিযোগ। এমনকী পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হতো।
এ বাদে জয়ের সংস্থার নথি থেকে জানা গিয়েছে, শান্তনুর দুই ছেলের নামে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৫ এবং ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৬১ টাকা দেওয়া হয়েছিল ওই কোম্পানিকে। যদিও জয়ের আইনজীবী সোমবার কোর্টে জানান, ফ্ল্যাটের জন্য টাকার লেনদেন হলেও পরে এ সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করা হয়। আবার, ২০১১ থেকে ফার্ন রোডে একটি বেআইনি নির্মাণ ঘিরে মামলা চলছে। সেখানেও শান্তনুর বিরুদ্ধে দখলদারির অভিযোগ ইডির।