শ্রীনগর: কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকা। এখানকার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যের সুখস্মৃতি অমলিন হয়ে থাকে পর্যটকদের মনে। কিন্তু এক বছর আগে জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ভ্রমণ পিপাসুদের আর্ত চিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছিল উপত্যকার বাতাস। ২৫ পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করেছিল জঙ্গিরা। এই নারকীয় হত্যালীলা নাড়িয়ে দিয়েছিল সারা বিশ্বকেই। বছর ঘুরলেও সেদিনের কথা ভাবতেও আঁতকে উঠছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বৈসরণ যেন তাঁদের কাছে দুঃস্বপ্ন। স্বজনহারাদের কাছে সময় যেন থমকে গিয়েছে। তাঁরা সবাই বলছেন, বেঁচে থাকতে ওই নৃশংস ঘটনা ভুলতে পারবেন না।
ভয়াবহ এই জঙ্গিহানায় প্রাণ হারিয়েছেন কৌস্তভ গানবোটে। এক বছর পরেও এখনও সেই দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে বেড়াচ্ছে স্ত্রী সঙ্গীতাকে। যন্ত্রণার কথা উগরে গিয়ে তিনি বলেছেন, স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পাশাপাশি জঙ্গিহানা মোকাবিলারও ট্রেনিং দেওয়া উচিত।
জঙ্গিদের বুলেট এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছিল পর্যটক প্রশান্ত সতপথীর দেহ। বাড়ির একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি পরিবার। তাঁর স্ত্রী প্রিয়দর্শিনী বলেন, ‘গত ১ বছরে এমন একটাও দিন যায়নি আমি প্রশান্তের কথা ভাবিনি। ও বেঁচে থাকতে আমাদের জীবন অন্যরকম ছিল। তখন আমি একটা অস্থায়ী কাজ করতাম। এখন সেটাই আমার জীবনধারণের সম্বল। সরকারি চাকরি, আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি আমাদের সন্তানের খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আর্থিক সাহায্য পেলেও আর কোনো সাহায্য পাইনি।’
জঙ্গিরা যখন একের পর এক পর্যটককে খুন করছেন তখন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন কাশ্মীরি যুবক আদিল হুসেন শাহ। এক জঙ্গির হাত থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে অসম লড়াইয়ে পেরে ওঠেননি পেশায় ঘোড়া চালক আদিল। জঙ্গিরা খুন করেছিল তাঁকেও। আদিলের পরিবার ইতিমধ্যেই আর্থিক সাহায্য, বাড়ি ও সরকারি চাকরি পেয়েছে। আদিলের বাবা সৈয়দ হায়দার শাহ বলেন, ‘আমাদের যতই দেওয়া হোক। আমার ছেলে কোনোদিন ফিরবে না। এই শোক জীবনে ভোলার নয়।’ পর্যটকদের বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আদিল। এজন্য গর্বিত তাঁরা বাবা। তিনি বলেছেন, ‘আদিল জাতি বা ধর্ম দেখে কাউকে বাঁচাতে যায়নি। ও মানবতা রক্ষায় প্রাণ দিয়েছে।’
অন্যদিকে ভয়াবহ এই জঙ্গিহানার বর্ষপূর্তিতে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে পোস্ট করা ছবি মনে করিয়েছে ‘অপারেশন সিন্দুর’কে। ছবির উপর লেখা হয়েছে, ‘কিছু সীমা পার করতে নেই। ভারত ভোলে না।’ সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘মনুষ্যত্বের সীমা লঙ্ঘন করলে, প্রত্যুত্তরও হয় চরম। ন্যায়বিচার করা হয়েছে। ভারত ঐক্যবদ্ধ।’