নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে ভারতের অর্থনীতি বড়োসড়ো অনিশ্চয়তার মুখে। প্রথম ধাক্কা ছিল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া। এরপর যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান বনাম আমেরিকার সংঘাতে যে ভাটা পড়েনি, তার আভাস স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমেই। যে-কোনো মুহূর্তে আরও বৃহৎ আকারে যুদ্ধের সম্ভাবনা চরমে। তাই পশ্চিম এশিয়ার সমুদ্রপথ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তার ফল? দিনদিন বেসামাল হচ্ছে মূল্যবৃদ্ধি! যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাতের এই দ্বিতীয় পর্ব ভারতের জন্য আরও বড়ো বিপদ নিয়ে আসবে। এই আশঙ্কায় কার্যত দিশাহারা অবস্থা স্বয়ং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার। মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ‘মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়বে। কারণ একটাই। আমদানি তথা পণ্য জোগানের অস্থিরতা। আমরা এখন ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ অবস্থান নিয়েছি। কারণ এছাড়া আপাতত উপায় নেই।’
রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য স্পষ্ট, ভারতের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ আমদানি সেখানকার দেশগুলি থেকে আসে। আর সবথেকে বড় নির্ভরতা হল অশোধিত তেল ও এলপিজি। সার আমদানিও এই রুটে। ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহদাংশও নির্ভরশীল পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে। এর থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ যে উদ্বেগের কথা বলেছেন সঞ্জয়, সেটি হল— পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নিজেদের রোজগারের টাকা নিয়মিত ভারতে পাঠায়, নিজেদের পরিবারের কাছে। তা ভারতের অর্থনীতির আবর্তনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। যুদ্ধ ও সংঘাতের এই আবহে সেই অর্থের জোগানও ধাক্কা খাচ্ছে। আর এই অবস্থায় দ্বিতীয় ধাক্কা তথা পুনরায় যুদ্ধ বাঁধার আবহে আরও বিপজ্জনক হতে চলেছে পরিস্থিতি। মার্কিন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সঞ্জয় মালহোত্রা আরও বলেছেন, ‘মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনীতি দুইই সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতির অবসান না ঘটলে কতটা যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এবং তার জেরে আর্থিক বৃদ্ধিহার তথা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে কি না, সেটা নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন।’
মনে করা হচ্ছিল, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন আক্রমণ থেকে শুরু হওয়া ওই অস্থিরতার অবসান ঘটবে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। পুনরায় আলোচনার কথা চলছে। কিন্তু ইরান ও আমেরিকা উভয়পক্ষই অনড়। ওয়াশিংটন আলোচনাও চায়, আবার হুমকিও থামাতে চায় না—এরকম অবস্থান নিলে ইরান কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। সুতরাং উত্তাপ ফের বাড়ছে প্রবলভাবে। সেই পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি অনুধাবন করেই রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর যে এরকম চরম উদ্বেগ তথা সতর্কবার্তা শোনাচ্ছেন, সেটা নিয়ে সংশয় নেই। তিনি বলেছেন, প্রকৃত চিন্তা নিয়ে আসছে এই দ্বিতীয় পর্বের সংঘাত। তা একবার শুরু হলেই সাপ্লাই চেইন অর্থাৎ পণ্য জোগানের রুট ভেঙে পড়বে। বিপুল সংকটের মুখে পড়বে ভারত।