• অঙ্গ-বঙ্গের পর এবার কলিঙ্গ, এসআইআরের আগেই ১০ লক্ষ ভোটারকে বাদের অভিযোগ
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোটের পরীক্ষায় বসা নয়। নিরপেক্ষ জনাদেশ নয়। বরং আগে থেকেই নিজের মতো করে ভোটার তালিকা তৈরি করে বিরোধী মতপ্রকাশের পথ রুদ্ধ করার মডেল এবার দেশজুড়েই চালু হবে? অস্ত্রের নাম এসআইআর? এই প্রশ্ন আগেই তুলেছে বিহারে তেজস্বী যাদব-কংগ্রেসের জোট। এখন তূণমূলের সঙ্গে এই অভিযোগ ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ঘোর সংঘাত চলছে। এই আবহে এবার ওড়িশা থেকেও এসআইআর নিয়ে সরব হল বিরোধী দল নবীন পট্টনায়কের বিজু জনতা দল। অভিযোগ করা হয়েছে, ওই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। কিন্তু প্রাক এসআইআর পর্বেই বাদ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারের নাম। রাজ্যসভার এমপি বিজু জনতা দলের নেতা সস্মিত পাত্র  এই মর্মে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের কাছে কাগজপত্র যাচাই না করে বিএলওরা আপন মর্জিমাফিক ৯ লক্ষ ৮০ হাজার বৈধ নাগরিকের নাম বাদ দিয়েছে। কমিশনের কাছে এর বিহিত চেয়ে তদন্ত দাবি করা হয়েছে। সস্মিত পাত্র চিঠিতে লিখেছেন, আমরা জানতে পেরেছি ওড়িশা রাজ্য নির্বাচন অফিসার ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তালিকা থেকে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখনও সেই প্রক্রিয়া চলছে। সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন দপ্তরের কাজকর্ম থেকে স্পষ্ট, বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কোনোকম বৈধ কারণ ছাড়া। কারণ, যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাদের মধ্যে বিপুল অংশের মানুষের ভোটাধিকার ২০০২ সালের তালিকায় রয়েছে। একই বাসস্থানের বাসিন্দা। কোথাও কেউ স্থানান্তরিত হয়নি,  পূর্বপুরুষ একই বাসস্থানের, তা সত্ত্বেও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিজু জনতা দলের অভিযোগ, বিএলও কোনো এলাকা পরিদর্শনই করেননি। বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ৭ নং ফর্ম পূরণ করে ২ লক্ষ নামে আপত্তি তোলা হয়েছে। এই সংখ্যা বাড়ছে। বিজু জনতা দল জ্ঞানেশকুমারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কোনোরকম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা যাবে না, যতক্ষণ না প্রত্যেকের  থেকে বৈধ নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। বিনা পরীক্ষায় কীভাবে ইচ্ছামতো নাম বাদ যেতে পারে? জ্ঞানেশকুমারকে বিজু জনতা দল বলেছে, দিল্লি থেকে বিশেষ টিম পাঠান ওড়িশায়। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে তারা বৈঠক করুক। ভোটার সংশোধনী ক্যাম্পে তাদের থাকতে হবে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, এবার ওড়িশায় শুরু হতে চলেছে পরবর্তী অস্থিরতা। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ। কমিশন পূর্ব ভারতকে টার্গেট করছে কেন? এই প্রশ্ন উঠছে।
  • Link to this news (বর্তমান)