ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ভোটের ময়দানে সেভাবে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি অনন্ত মহারাজকে। তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হরিহর দাস এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। বংশীবদন বর্মন বিজেপির হাত ধরায় গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনে (জিসিপিএ) ভাঙন। সংগঠনের বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থীদের হয়ে তারা চুটিয়ে প্রচারও করেছে।
এদিকে, ভিডিয়ো বার্তায় বিজেপিকে সমর্থন করতে বলায় ‘বিদ্রোহ’ জীবন সিংহের তৈরি করা দল কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলে (কেএসডিসি)। সংগঠনের সিংহভাগ সমর্থক সাফ জানিয়েছেন, জীবনের ‘ফতোয়া’ মানবেন না তাঁরা। সর্বত্রই তাঁদের প্রার্থী রয়েছে। সুতরাং ভোটের ময়দানে লড়বেন নিজেরাই। এমনকী কামতাপুর প্রোগেসিভ পার্টিও (কেপিপি) তৃণমূলকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। ঘটনাক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে দলের রাজবংশী ভোটব্যাংকে এবার ধস নামার আশঙ্কায় গেরুয়া শিবির।
ধূপগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়ের দাবি,রাজবংশী সমাজের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বিজেপি শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। এটা রাজবংশীদের কাছে স্পষ্ট। ফলে তাঁরা তৃণমূলকেই সমর্থন করবেন বলে আমাদের আশা।
রাজবংশীদের পাশাপাশি পদ্মপার্টির চিন্তা বাড়াচ্ছে চা বলয়ের ভোট। কারণ, চব্বিশের নির্বাচনেই স্পষ্ট হয়ে যায়, উত্তরের চা বলয়ে বিজেপির পায়ের তলার মাটি আলগা হতে শুরু করেছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা মিলিয়ে চা বলয়ে ৪৮৩টি বুথের মধ্যে গত লোকসভা নির্বাচনে ২৪৪টিতে লিড পেয়েছে তৃণমূল। এরপর প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা বিজেপি ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। মাদারিহাট বিধানসভা উপ নির্বাচনে চা বাগানের একশোটি বুথের মধ্যে ৮১টিতেই জয়ী হয় তৃণমূল। চা বলয়ে তাঁদের হাল যে খারাপ, দিন কয়েক আগে তা স্বীকারও করে নিয়েছেন খোদ মাল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুক্রা মুণ্ডা। যদিও দলের রাজবংশী ভোটব্যাংকে চিড় ধরার সম্ভাবনা নেই বলে দাবি বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জনসভায় ছিলেন অনন্ত মহারাজ। বংশীবদন বর্মন আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। জীবন সিংহ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। চা বলয়ের ভোটব্যাংক নিয়ে বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার বক্তব্য, চব্বিশের নির্বাচনে চা বাগানে আমাদের ফল অনেকটাই খারাপ হয়েছিল, এটা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু এবার তা মেরামতের চেষ্টা হয়েছে। যদিও চা বাগানে বিজেপির ভোটব্যাংকে ধস নামবে বলে দাবি তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল সোনারের।