• চেয়ার ভরল না হেমা মালিনীর সভায়, রোড শো’য়ে বাহিনী আর গাড়ির ভিড়
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ, ময়নাগুড়ি: শেষদিনের প্রচারে ময়নাগুড়িতে বলিউড অভিনেত্রী সাংসদ হেমা মালিনীকে নিয়ে এসেও সভাস্থলের চেয়ার ভরাতে পারল না বিজেপি। অন্যদিকে, মঙ্গলবার কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে ‘ড্রিম গার্ল’ এর রোড শো’য়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী আর গাড়ির ভিড়ই ছিল বেশি। ভিড় জমল না মেখলিগঞ্জের উছলপুকুরির সভাতেও। ফলে অস্বস্তিতে পড়তে হল গেরুয়া শিবিরকে। 

    শেষ প্রচারে নজর কাড়তে হেমাকে দিয়ে কোচবিহার জেলায় দু’টি নির্বাচনি কর্মসূচি করায় বিজেপি। কিন্তু একটিতেও সেভাবে ছাপ ফেলতে পারেনি তারা। কোচবিহার দক্ষিণে দলীয় প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসুর সমর্থনে রোড শো’য়ে সামনের দিকে কিছু লোক থাকলেও পিছনের দিকে তা দেখা যায়নি। শহর ঘুরে হেমার র‌্যালি যখন পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ায় পৌঁছয়, তখন মিছিলে লোকের চেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী আর গাড়ির ভিড় ছিল বেশি। 

    শেষ মুহূর্তের প্রচারে মেখলিগঞ্জের উছলপুকুরিতে বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায়ের সমর্থনে জনসভা করেন হেমা। কিন্তু সেখানেও প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়ায় গেরুয়া শিবিরে হতাশা স্পষ্ট। সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জনসংযোগের অভাবই এর কারণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। যদিও পদ্ম প্রার্থী দধিরাম রায়ের দাবি, আমাদেরই জয় হবে। হেমা মালিনীকে নিয়ে এসেও ভিড় টানতে ব্যর্থ হওয়ায় তৃণমূলের মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি কেশবচন্দ্র বর্মনের তোপ, এর থেকেই স্পষ্ট বিজেপির প্রচারে সাড়া দিচ্ছেন না মানুষ। 

    ময়নাগুড়ি বাইপাস সংলগ্ন মাঠে এদিন যখন হেমার কপ্টার নামে, তখনও সভাস্থলে ফাঁকা ছিল চেয়ার। এই পরিস্থিতিতে মঞ্চে উঠে কয়েক মিনিট ভাষণ দিয়েই নেমে যান তিনি। ফলে মন ভরেনি বিজেপি কর্মীদেরই। এনিয়ে সভা শেষে তাঁদের মধ্যে শোনা যায় ফিসফাস। হেলিপ্যাডে কিছু মানুষ অপেক্ষা করলেও তাঁদের ধারেকাছে যাননি বিজেপির এই অভিনেত্রী সাংসদ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে দূর থেকে কয়েকবার হাত নেড়ে উঠে পড়েন হেলিকপ্টারে। এনিয়ে আক্ষেপ চেপে রাখেননি স্থানীয় বিজেপি কর্মী মনা বসাক, সুমিত্রা রায়, শেফালি রায়, কল্পনা মণ্ডল ও বিলাসী মণ্ডল। বলেন, টিভির পর্দায় বহুবার দেখেছি। এদিন নিজের চোখে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু মঞ্চে কয়েক মিনিট ভাষণ দিয়েই নেমে যান হেমা। বাড়ির কাজ ফেলে এসে এতে মন ভরল না। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা এসসি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কীর্তনিয়া বলেন, আসলে আমাদের বুথস্তরে অনেক কর্মসূচি ছিল। হেমা মালিনী আসছেন, এই বার্তা দেরিতে পেয়েছি। তাই সেভাবে প্রচারের সময় পাইনি। যার কারণে লোকজন কম এসেছে। 

    এদিন যে মাঠে হেমা এসেছিলেন, সেখানেই প্রচারের শুরুতে সভা করে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় আছড়ে পড়ে ভিড়। এদিন হেমার সভাস্থলের কাছে অনেকেই খাবারের দোকান দিয়েছিলেন। কিন্তু বিক্রিবাটা না জমায় মন খারাপ তাঁদের। 

    ফালাকাটা থেকে এসে চকোলেট, পপকর্ন, বাদামের প্যাকেট সাজিয়ে বসা শ্যামল সাহা বলেন, হেমার কপ্টার নামার সময় কিছু লোক হয়েছিল। তারপরই ময়দান ফাঁকা হয়ে যায়। মমতার সভার দিন ভালো টাকার বেচাকেনা করেছিলাম। এদিন খরচটুকুও উঠল না।  
  • Link to this news (বর্তমান)