সংবাদদাতা, বালুরঘাট: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে গিয়েছিলেন বালুরঘাটের এক সরকারি কর্মী। শুনলেন, ‘আপনার ভোট হয়ে গিয়েছে’। কে দিল ভোট? তার উত্তর দিতে পারেননি দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার। ফলে ভোট দিতে না পারায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন তথা নির্বাচন আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই সরকারি কর্মী। যদিও নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এব্যাপারে জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি বলেন, এখনও অভিযোগ হাতে পাইনি। কী সমস্যা হয়েছে,অবশ্যই খতিয়ে দেখব।
কমিশন সূত্রে খবর, ওই সরকারি কর্মীর নাম বিমল সরেন। বাড়ি বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের মুনইল এলাকায়। তিনি বালুরঘাটে আরএলআই অফিসে কর্মরত। তাঁর গঙ্গারামপুর বিধানসভা এলাকায় ভোটের ডিউটি পড়েছে। ১৬ এপ্রিল বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ ছিল। সেদিন ভোটকর্মীদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পোস্টাল ব্যালট ভোটকেন্দ্রে ভিড় বেশি থাকায় ওইদিন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বলে দাবি বিমলবাবুর। তাঁর আরও দাবি, ১৬ তারিখেই মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাঁরা ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের ২০ এপ্রিল ভোট নেওয়া হবে। সেইমতো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে যান তিনি। কিন্তু সেখানে প্রিসাইডিং অফিসার জানালেন, আপনার ভোট হয়ে গিয়েছে। আর তাতেই বিভ্রান্তি। এরপরেই জেলা প্রশাসনের কাছে বিমল লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। বলেন, আমার বাকি সহকর্মীরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু আমি ভোট দিতে গেলে বলা হয়েছে, আমার ভোট হয়ে গিয়েছে। আমার ভোট আমি দিলাম না, তাহলে কে দিল? আমার হাতের আঙুলেও ছাপ নেই। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা জানতে এবং আমি যাতে ভোট দিতে পারি সেজন্য জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। ওই কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন বাকি সহকর্মীরা। এক সহকর্মী গণেশ ঠাকুর বলেন, একজনের ভোট আরেকজন কীভাবে দিতে পারেন? এখানে গাফিলতি কার? নির্বাচন কমিশন যাতে প্রকৃত ঘটনা খুঁজে বের করে, তার জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কারও গণতান্ত্রিক অধিকার যেন খর্ব না হয়।