• রমারঞ্জনের মগজাস্ত্রেই সিউড়ি বিধানসভায় জয়ের স্বপ্ন দেখছেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন ১১টা ছুঁইছুঁই। সিউড়ির জেলা পার্টি অফিসে তখনও চলছে চাপা গুঞ্জন। একপাশে বসে থাকা মানুষটির পরনে অতি সাধারণ পোশাক। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ। কাঁচাপাকা দাড়ির আড়ালে শান্ত চোখ দু’টিতে তখন একাগ্রতা। কোন বুথে কেমন কাজ হল? গতরাতের সাজানো স্ট্র্যাটেজি কি মিলেছে? কর্মীদের থেকে হিসাব নিয়ে সেই অঙ্কের কাটাছেঁড়া করছেন।

    ২৬ বছর আগে ছাত্র থাকাকালীন একবারই ভোটে লড়েছিলেন। জেতা হয়নি। আর কোনোদিন ব্যালট পেপারে তাঁর নাম ওঠেনি। অথচ এখন তাঁর চোখ দিয়েই জয়ের স্বপ্ন দেখছেন সিউড়ির তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। তিনি রমারঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। শাসকদলের সিউড়ি শহর সহ-সভাপতি এবং এই ভোটের লড়াইয়ে উজ্জ্বলের ‘ইলেকশন এজেন্ট’। যদিও এই মুহূর্তে তাঁর সবচেয়ে বড়ো পরিচয়, তিনি এই যুদ্ধের ‘চাণক্য’।

    বীরভুমের রাজনীতিতে রমারঞ্জন কোনো ‘হেভিওয়েট’ নাম নন। ১৯৯৮সালে যখন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গঠিত হয়, তিনি তখন বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র। তাঁর হাত ধরেই প্রথমবার সেই ক্যাম্পাস দখল করেছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। ১৯৯৯সালে ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি হওয়ার পর ২০০০সালের পুরভোটে তিনি প্রথম লড়েছিলেন। সেই নির্বাচনে পরাজিত হলেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি। তারপর থেকে উত্থানপতন রমাবাবুর জীবনে নিত্যসঙ্গী। বিধায়ক সুনীতি চট্টরাজের হাত ধরে পেশায় স্কুলশিক্ষক রমাবাবু জেলা কমিটিতে আসেন। ২০১০সালে শহর সভাপতির দায়িত্ব পান। কিন্তু ২০১৪সালে লোকসভা নির্বাচনে শতাব্দী রায় সাংসদ হলেও সিউড়ি শহরে দল পিছিয়ে থাকে। অনুব্রত মণ্ডলের জমানায় লিড দিতে না পারায় তাঁকে পদ হারাতে হয়। পদে না থাকলেও ২০২১সালে বিকাশ রায়চৌধুরী ও ২০২৪সালে শতাব্দী রায়কে জেতাতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সেই একনিষ্ঠ কাজই তাঁকে সামনের সারিতে ফিরিয়ে এনেছে। এবার শতাব্দী রায় নিজেই রমাবাবুকে প্রার্থী উজ্জ্বলের হয়ে প্রচার ও ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন।

    সিউড়ির বুথস্তর থেকে শুরু করে আরএসএসের গোপন শক্তি-সবটাই অবশ্য রমার নখদর্পণে। প্রার্থীর প্রচারসূচি ঠিক করা, যে সমস্ত বুথে সংগঠন দুর্বল-সেখানে প্রচারের উদ্যোগ নিচ্ছেন। বিজেপি বা আরএসএসের দুর্গে কীভাবে সিঁদ কেটে তৃণমূলের সংগঠন বাড়াতে হবে-কর্মীদের সেই দাওয়াইও দিচ্ছেন। খাতায়-কলমে অংক কষে প্রার্থীকে দেখিয়ে দিচ্ছেন-কোন অঞ্চলে কতটা লিড নিশ্চিত।

    প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রমা শুধু আমার এজেন্ট নয়, ও এই যুদ্ধের সেনাপতি। ও এই লড়াইয়ের মেরুদণ্ড। আশা করছি, ওর অংক ভুল হবে না।’ রমারঞ্জন নিজে কী ভাবছেন? স্মিত হেসে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। মানুষের কাজ করব বলে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়েছিলাম। এখনও তাই করছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হয়ে দলকে জেতাতে পারলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)