• শত্রুঘ্ন ও কীর্তির লাগাতার প্রচার, হিন্দি ভোট বাঁচানো নিয়ে চিন্তায় গেরুয়া শিবির
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বাংলার ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি খুঁজতে গিয়ে নিজেদের পা঩য়েই কুড়ুল মারল পদ্ম শিবির। পশ্চিম বর্ধমানে নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে সেই চর্চাই চলছে জোর কদমে। অবাঙালি প্রভাবিত কুলটি, আসানসোল দক্ষিণ, দুর্গাপুর পশ্চিম, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়ার মতো বিধানসভা আসনগুলিতে ব্যাপক সংখ্যাক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। যাঁর বড় অংশই অবাঙালি হিন্দু। এতদিন বিজেপি যা নিজেদের ‘কোর’ ভোট হিসাবে ব্যবহার করে এসেছে। নাম বাদ পড়ায় ক্ষোভ তো ছিলই ঩সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছেন স্বজাতি শত্রুঘ্ন সিনহা ও কীর্তি আজাদ। ভোট মরশুমে অবাঙালি এলাকায় তরুপের তাস হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই দুই তারকা সাংসদ। প্রচারে গিয়ে হিন্দি ভোজপুরি ভাষায় বিজেপির ‘অত্যাচার’ তুলে ধরছেন তাঁরা। তাতেই ক্ষোভ তুঙ্গে উঠছে। যার জেরে এবার হিন্দিভাষি এলাকাগুলিতে বিজেপির নিজস্ব ভোটব্যাংক অটুট রাখা‌ই চ্যালেঞ্জ। 

    কুলটি বিধানসভা এলাকায় ৪০ শতাংশের বেশি অবাঙালি মানুষের বাস। এসআইআরের আগে সেখানে ভোটার ছিল ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬৯৮। এবার ভোট দেবেন ২ লক্ষ ১০ হাজার ৫৫৩ জন। অর্থাৎ ৪৯ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। যাঁর বড় অংশই অবাঙালি হিন্দু। গত বিধানসভা নির্বাচনে সাতশোর কম ভোটে বিজেপি প্রার্থী ওই আসনে জিতেছিলেন। আবাঙালি এলাকায় একচেটিয়া বিজেপি ভোট পেয়েছিল সেবার। এবার সেই এলাকায় আত্মীয়র নাম বাদের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। আর সেসব এলাকায় গিয়েই জন সংযোগ, জনসভা করছেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা ও বর্ধমান দুর্গাপুরের সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ। তাঁদের জনসভায় উপচে পড়ছে ভিড়। সেখানে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। বাসিন্দাদের তৃণমূল সাংসদরা প্রশ্ন তুলছেন, আপনারা কী বাংলাদেশি!  একই অবস্থা রানিগঞ্জ বিধানসভা এলাকাতেও। সেখানে রানিগঞ্জ শহরে বহু অবাঙালি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। কয়েক দশক ধরে যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছেন। ৪৩ হাজার মানুষের নাম এখান থেকে বাদ পড়েছে। যেখানে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যাও যথেষ্টই বেশি। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকাতেও একই অবস্থা। এই বিধানসভা কেন্দ্রে বার্নপুর শহরে অবাঙালিদের প্রভাব রয়েছে। এখান থেকেই বড় লিড নিয়ে ২০২১ সালে বিধায়ক হন অগ্নিমিত্রা পল। এই কেন্দ্র  থেকে ৪৭ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। ক্ষোভ সামলাতে অগ্নিমিত্রাদেবী এর দায় রাজ্য সরকারের কর্মীদের উপরই চাপিয়েছেন। দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা আসনটিতে ২০২১ সালে বিজেপি জয়লাভ করার পিছনেও অবাঙালি ভোটের বড় অবদান ছিল। সেখানে পাড়ায়, পাড়ায় প্রচার করছেন স্থানীয় সাংসদ কীর্তি আজাদ। একাধিক জনসভা করে এসেছেন বিহারীবাবু শত্রুঘ্নসিনহাও। ওই কেন্দ্রেও ৪১ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। যাঁর মধ্যে বহু অবাঙালি হিন্দু রয়েছেন। কাজেই বিজেপির জেতা তিন আসনে অবাঙালি ভোটে ভাঙন ধরলে কেন্দ্র ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জের হবে গেরুয়া শিবিরের কাছে। 

    যদিও বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, মানুষ বাংলায় পরিবর্তন চাইছে। যে সব সাংসদদের এলাকায় দেখা‌ যায় না, তাঁদের কথা শুনে মানুষ ভোট দেবে! এটা হতে পারে না।

    যদিও আসানসোলের এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, খিদে সবার পায়। অবাঙালি মানুষ কী সস্তায় গ্যাস পান। বিজেপি কী দিয়েছে তাঁদের জন্য।
  • Link to this news (বর্তমান)