‘২৯ এপ্রিলের পর বিজেপিকে ভোকাট্টা করবে বাংলার মানুষ’
বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাতার, বড়জোড়া, ঝাড়গ্রাম ও সংবাদদাতা, খড়্গপুর: প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ দেশের সমস্ত হেভিওয়েট বিজেপি নেতা বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে রয়েছেন। একাধিক ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও হাজির হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশর সভা ফ্লপ হয়ে যাচ্ছে। উল্টোদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় তীব্র রোদ উপেক্ষা করে ভিড় উপচে পড়ছে। তা দেখে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। মঙ্গলবার অভিষেক বলেন, ‘২৯ এপ্রিলের পর বিজেপি হাওয়া হয়ে যাবে। তাদের আর দেখা যাবে না। বাংলার মানুষ তাদের ভোকাট্টা করে দেবে। তারা বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি জানে না। বাংলায় কথা বলতে পারে না। বাংলা লেখা পড়তে পারে না। তাদের বাংলার মানুষ কখনোই সমর্থন করবে না।’
এদিন অভিষেক বাঁকুড়ার বড়জোড়া, ঝাড়গ্রাম এবং ভাতারের আলিনগরে সভা করেন। খড়্গপুরে রোড-শো করেন। প্রতিটি কর্মসূচিতেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। বিজেপি তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। একাধিক সেলিব্রিটি নেত্রীকে ময়দানে নামিয়েছে। তারপরও তারা সাড়া পাচ্ছে না। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন সেটাই করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কোনওদিনই বন্ধ হবে না। বিজেপির হাতে বাংলায় বরাদ্দ বন্ধের রিমোট রয়েছে। কিন্তু জনতার হাতে রয়েছে ইভিএম। বিজেপি বারবার মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। ভোটের দিনে বাংলা ওদের লাইনে দাঁড়িয়েই ইভিএমে জবাব দেবে। একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা, ইডি, সিবিআই। তারপরও বাংলাকে হারানো যাবে না। বাংলা বহিরাগতদের কাছে কখনোই মাথানত করবে না।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই সিপিএম বিজেপিকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে। এমনই অভিযোগ তুলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে হার্মদরা জার্সি বদল করে ভোট চাইছে তাদের জমানত জব্দ করতে হবে। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে সিপিএমকে সমর্থন করা। আপনারা নিশ্চয়ই সিপিএমের সেই অত্যাচার আর ফিরিয়ে আনতে চান না।’
বিজেপি নেতারা এরাজ্যে এসে বাংলা অস্মিতায় শান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেক সময় সেটা তাঁদের কাছে ব্যুমেরাং হয়ে যাচ্ছে। ঠিকমতো বাংলা উচ্চরণ করতে না পারার জন্য তাঁরা হাসির খোরাক হচ্ছেন। অভিষেক বিজেপি নেতাদের খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘যোগী আদিত্যনাথ বক্তব্য রাখছেন স্বামী বিবেকানন্দ নাকি বলেছেন, তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। যারা বাংলা সংস্কৃতির অপমান করে তাদের বিরুদ্ধে রায় দিতে হবে। কোনও শিক্ষিত, ভদ্রলোক বিজেপি করে না। সিপিএমের হার্মাদরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। বিজেপি বহু মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। তার জবাব ওদেরকে বাংলার মানুষ ইভিএমে দেবে। বিজেপি মানে নির্বাচনের আগে শুধু প্রতিশ্রুতি আর ভোটের পর শুধুই স্মৃতি।’