সুমন তেওয়ারি, কুলটি: মোদির অনেক গ্যারান্টির মধ্যে একটি ‘ভয়মুক্ত বাংলা’ গড়ার সংকল্প। সংবাদ মাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়ায় খুললেই ঢাউস বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। অথচ, বাংলায় ভোট প্রচারে এসে ‘আতঙ্ক’ই ফেরি করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মঙ্গলবার প্রথম দফা নির্বাচনের শেষ দিনে কুলটিতে জনসভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে আগাগোড়া ভয় দেখিয়ে গেলেন তিনি। বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভোট দিন। ৫ মে বিজেপি সরকার গঠন হবে। এক এক জন অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে মারা হবে। মমতার গুন্ডারা শুনে রাখো, ভোটের দিন ঘর থেকে বের হলে ৪ মে’র পর উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করে দেওয়া হবে।’ এবারের ভোটে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে কমিশন। অভূতপূর্বভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বাংলায়। তারপরও কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিতে হচ্ছে? রাজনৈতিক মহলের দাবি, বাংলার ভোটে প্রকৃত কোনো ইস্যু না পেয়েই ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাই কখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাজোয়া গাড়ির ছবি ভাইরাল করা হচ্ছে। কখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রধানদের বৈঠকের ছবি সামনে আনা হচ্ছে। শেষে হুমকি দিয়ে প্রচার করছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শাহ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্বে। তারপরও যে দেশের সীমানা সুরক্ষিত নয়. তাঁর কথাতেই এদিন স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকার গড়লে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি দেওয়া হবে। দেশের সীমানা এমনভাবে নিরাপদ করা হবে যে পাখিও ঢুকতে পারবে না।’ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে যে অপ্রতিরোধ্য এদিন তাঁর ভাষণেই স্পষ্ট হয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল জয়লাভ করলে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দেবেন। আপনারা কী চান, অভিষেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হোক।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন যে সব প্রকল্প চালু আছে তা সবগুলিই চালু থাকবে। আমরা যা দেব বলেছি, তা অতিরিক্ত।’ রাজনৈতিক মহলে মতে, বিজেপি নেতারাও বুঝে গিয়েছেন সরকার বদল হলে রাজ্য সরকারের ১০৬টি প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে রাজ্যবাসী। তাই শেষ প্রচারে সেই আশঙ্কা কাটাতে বাধ্য হলেন শাহ।
তবে, এদিন সবকিছুকেই ছাপিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ভাষায় হুমকি দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। এদিন তিনি বলেন, ‘বাংলার মেয়েরা রাত একটা পর্যন্ত নিরাপদে স্কুটি চালাতে পারবে।’ তাহলে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে হাতরাস, উন্নাওয়ের মতো ঘটনা কী ভাবে হল, তা নিয়ে শাহকে পাল্টা দিয়েছে তৃণমূল। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো তথ্য তুলে ধরে তারা বলেছে, এখনও দেশের নিরাপদ শহরগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে কলকাতা। বরং উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখন্ডে ৬ বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওড়িশার গোপালপুরে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে।মহারাষ্ট্রের নাসিকে স্বঘোষিত গডম্যান একাধিক মহিলার উপর যৌনশোষণ চালিয়েছে। এসব অপরাধ কেন ঠেকাতে পারলেন না অমিত শাহ? প্রশ্ন তৃণমূলের। এদিন কুলটির বলতোড়িয়ায় গণেশ পুজোর ছোট মাঠেই অমিত শাহর সভার আয়োজন করে বিজেপি। মাত্র চারটি ব্লক করা হয়েছিল মানুষদের বসানোর জন্য। কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকদের সামনেই বক্তব্য রাখেন তিনি। শাহ আসার আগে মঞ্চ সঞ্চালককে বারবার বলতে হয়, জোর করে স্লোগান দিন। না হলে কিন্তু অমিত শাহজি মঞ্চে আসবেন না। খোদ অমিত শাহকেও বার বার সমর্থকদের উদ্দেশে জোর করে আওয়াজ তোলার দাবি জানাতে হয়। তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক বলেন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া বিজেপি বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসছে বাংলার মানুষ। তাঁর বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ভয় দেখিয়ে ভোটের দিন মানুষকে গৃহবন্দি করার চেষ্টা করছে।’