• শাহের সভা ছেড়ে দেব-দর্শনে ছুট বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: অমিত শাহ আসছেন। চন্দ্রকোণা রোডের শান্তিনগর ফুটবল মাঠে সাজোসাজো রব। বিশাল সভামঞ্চ। গণদেবতাদের আসন পাতা সারি সারি। বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা প্রবেশ করছেন সভাস্থলে। কেউ চেয়ারে বসে। কেউ ঘোরাফেরা করছেন। সভার পরিচালক মাইকে ঘোষণা করছেন, ‘আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমার-আপনার প্রিয় নেতার হেলিকপ্টার ল্যান্ড করবে। আপনারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন বলে কথা!

    এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। হঠাৎই ছন্দপতন! কোনওভাবে ফুটবল মাঠে খবর এসে পৌঁছয়, তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব চলে এসেছেন। ব্যাস, আর যায় কোথায়! হইহই করে সবাই ছুটলেন দেব-দর্শনে। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ছুটলেন নেতারাও! মুহূর্তেই বিজেপি তথা অমিত শাহের সভাস্থল ফাঁকা। তৃণমূলের রোড শো’য়ে ডাবল ভিড়। পদ্মের স্থানীয় নেতারা হতবাক। এখন যদি শাহজি চলে আসেন তা হলে বিড়ম্বনার একশেস! ভাগ্যিস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হেলিকপ্টার চন্দ্রকোণা রোডের মাটি ছুঁল দেব আসার পনেরো মিনিট পর। ততক্ষণে দেবের হুডখোলা গাড়ি শান্তিনগর ছাড়িয়ে সাতবাঁকুড়ার দিকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। শুরুটা হয়েছিল চন্দ্রকোণা স্টেশন পাড়া থেকে। 

    প্রচারের শেষদিন শালবনীর বিজেপি প্রার্থী বিমান মাহাতর সমর্থনে অমিত শাহের জনসভা ছিল। অন্যদিকে, চন্দ্রকোণা রোডে শালবনী বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শ্রীকান্ত মাহাতর সমর্থনে রোড-শোতে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি ছিল দেবের। সেই মতো বিকেল ৩টে নাগাদ চন্দ্রকোণা রোডে পৌঁছয় দেবের হেলিকপ্টার। তাঁকে দেখতে ভিড় উপচে পড়ে। সেই সময় শাহের সভায় অপেক্ষা করছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। দেব আসার খবরে শাহের সভার চেয়ার খালি করে তৃণমূলের রোড শো’তে পৌঁছে যান প্রায় সকলেই। দেবের রোড শো’ নাগালের বাইরে চলে যেতেই বিজেপির নেতা-কর্মীরা ফের চলে আসেন অমিত শাহের সভায়। এর ঠিক কিছু পরেই মঞ্চে ওঠেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  উঠেই তিনি বলেন, ‘মমতার গুন্ডারা যে পয়সা খেয়েছে, তার ফেরত দেওয়ার কাজ বিজেপি সরকার করবে। মমতা দিদি বাংলার আলুচাষ শেষ করে দিয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ বানানোর কাজও বিজেপি করবে। বাইরের রাজ্যে যাবে আলু।’ মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘মোদির জমানাতেই আলু সহ অন্যান্য চাষের খরচ বেড়েছে। পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়েছে। কৃষকরা আগের মতো আর মুনাফা পান না। অমিত শাহের মুখে এসব কথা মানায় না।’ আর বিজেপির নেতা-কর্মীদের দেব-দর্শন প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভিন রাজ্যের পরিযায়ী নেতাদের সাধারণ মানুষ পছন্দ করেন না। এটাই তার প্রমাণ।’
  • Link to this news (বর্তমান)