• যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে সাতগাছিয়ায় জয়ের স্বপ্ন দেখছে জোড়াফুল শিবির
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটে জোড়াফুল শিবিরের লক্ষ্যই হল, অতীতের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে জয়ী হওয়া। উন্নয়নমূলক কাজ ও জনসংযোগকে হাতিয়ার করেই পাড়ায় পাড়ায় চষে বেড়াচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। বিরোধী দলের সমর্থকদের বাড়িতেও হানা দিচ্ছেন তাঁরা। বোঝাচ্ছেন, কেন তৃণমূলকে ভোট দেবেন? এর বিপরীত ছবি দেখা গেল পদ্ম, হাত ও কাস্তে-হাতুড়ি শিবিরে। তাঁরা নানাভাবে জনসংযোগের চেষ্টা চালালেও কাজের ভাঁড়ার শূন্য। সাংগঠনিক দক্ষতাও তাদের সেভাবে নেই। তবুও তাদের দাবি, জোড়াফুল শিবিরকে টেক্কা দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে তারা। 

    বাস্তবে জয় ও পরাজয় নিয়ে আগ্রহ নেই বিরোধী শিবিরের। বরং তাদের লড়াই দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নিয়ে। সাতগাছিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির কর্মসূচি, সাংগঠনিক হালচাল এবং নবীব-প্রবীণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই ছবিই উঠে এসেছে। রায়পুরে নদীর ধারে ভরদুপুরে একটি মিষ্টির দোকানে বসে কথা হচ্ছিল প্রবীণ নাগরিক রাহুল মণ্ডলের সঙ্গে। বললেন, এক সময় বিধানসভা ভোটে সাতগাছিয়া ছিল গোটা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদার আসন। কারণ, বামফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এই কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়াতেন। এখন ভোটে তৃণমূল লালপার্টিকে অনেকটা পিছনে ফেললেও আগের উত্তেজনা বা জৌলুস কিছুই নেই। কেন? আসলে জ্যোতি বসু ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা এই কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী হিসাবে জয়লাভ করেছেন। সেই সময় তাঁর মূল প্রতিপক্ষ ছিল কংগ্রেস। জ্যোতি বসু প্রতিবার জয়ী হলেও কংগ্রেস সমানতালে টক্কর দিয়েছে। পরবর্তীকালে ২০০১ সাল থেকে লড়াইয়ে নামে তৃণমূল। প্রতিপক্ষ সিপিএম। সেবারই সিপিএমের কাছ থেকে এই আসন কেড়ে নেয় তৃণমূল। সিপিএম নেমে যায় দ্বিতীয় স্থানে। সেই ছবিও বদলে গেল ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে। তৃণমূল প্রথমে থাকলেও সিপিএমকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে বিজেপি। এবার মজার বিষয় হল, তৃণমূলের প্রতিপক্ষ বলতে তেমন কেউ নেই। বিজেপি কিছুটা দৌড়ালেও সিপিএম এবং কংগ্রেস ক্রমশ নীচের দিকে তলিয়ে গিয়েছে।

    দক্ষিণ বাওয়ালিতে প্রচারের সময় দেখা হল জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শিখা রায় এবং তাঁর স্বামী ডাঃ তরুণ রায়ের সঙ্গে। তৃণমূল প্রার্থী সোমাশ্রী বেতালের হয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালে এখানে তৃণমূল ভোট পেয়েছিল ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৫৩ । এবার ভোট আরও বাড়বে। সব রেকর্ড ভেঙে যাবে। কারণ, এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার ধারেকাছে নেই কোনো দল। প্রার্থী সোমাশ্রী বেতালের কথায়, বিরোধীদের নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।

    বিজেপি প্রার্থী বাখরাহাটের বাসিন্দা অগ্নিশ্বর নস্কর বলেন, পদ্মকে হেলাফেলা করার উচিত হবে না। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপি পেয়েছিল ৯৫ হাজার ৩১৭টি ভোট। আমাদের যত করবে অবহেলা, ততই সহজে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব। এলাকার মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছেন। সিপিএম প্রার্থী গৌতম পাল বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল— দুই দলকেই আর চাইছে না সাতগাছিয়া। এলাকাবাসী মুখে না বললেও গত ভোটে তৃণমূলের সন্ত্রাস দেখেছে। তাই তাঁরা এবার চুপচাপ থেকে বামেদের ভোট দেবেন। কংগ্রেস প্রার্থী প্রভাষ ঘোষের দাবি, এবার সাতগাছিয়ার ভোটে ফ্যাক্টর হিসাবে থাকবে কংগ্রেস। আমাদের অত দুর্বল ভাবার কারণ 

    নেই।তৃণমূল প্রার্থী সোমাশ্রী বেতাল।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)