অলকাভ নিয়োগী, বীজপুর: হালিশহরের চৈতন্যডোবা। সেখান থেকে কাঁচরাপাড়ার দিকে কিছুটা এগলেই ডানহাতের দেওয়ালে প্রভু জগন্নাথ। ছবিতে তাঁর নীচে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পিছনে রথ। মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে প্রসাদ বিতরণ করছেন। অল্প দূরেই জ্বলজ্বল করছে আরও এক দেওয়াল -‘ঝড় হোক বা বন্যা, মানুষের পাশে অগ্নিকন্যা।’ কাঁচরাপাড়ার বাগমোড়। ঠিক তার আগেই এক দেওয়ালে ফুটে উঠেছে, ‘কোথায় তোমার রোহিঙ্গা, কোথায় বাংলাদেশি, এসআইআরের অত্যাচারে মরছে বঙ্গবাসী।’ হালিশহরে রামপ্রসাদের ভিটে যাওয়ার রাস্তায় এক দেওয়াল লিখনে মুখ্যমন্ত্রীকে আঁকা হয়েছে দুর্গা রূপে। তাঁর দশ হাত। অস্ত্রের বদলে দশ প্রকল্প।
গোটা বীজপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রচারে ঝড় বইছে। পদ্মফুল, কাস্তে-হাতুড়ি নেই, এমনটা নয়। কিন্তু প্রচারে বহুগুণ এগিয়ে ঘাসফুল। স্থানীয়দের কথায়, ২০২১ থেকে ২০২৬, এই ৫ বছরে বীজপুরে তৃণমূলের মাটি আরও উর্বর হয়েছে। গত নির্বাচনে মুকুল রায়ের পুত্র দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী হয়ে। সেই শুভ্রাংশু রায় এখন কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের ভাইস চেয়ারম্যান। তাই পদ্মের ঘর ভেঙে খান খান। বীজপুরের সিপিএমের কাস্তেতে এখন মরচে পড়েছে। ওজন কমেছে হাতুড়ির। তাই পাঁচ বছরের বিধায়ক এবং দ্বিতীয়বারের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুবোধ অধিকারীর উপরই আস্থা রাখছে বীজপুর।
সুবোধ অধিকারীর বিরুদ্ধে এবার বিজেপির প্রার্থী সুদীপ্ত দাস। সিপিএমের হয়ে দাঁড়িয়েছেন দেবাশিস রক্ষিত ওরফে ববি। কাঁচরাপাড়ার বাগমোড়ের সামনে সিপিএম প্রার্থীর সমর্থনে দেখা গেল এসএফআইয়ের একটি পোস্টার। তাতে লেখা—‘বীজপুরে ববি’। সেই পোস্টারে বাম ছাত্র সংগঠনই ‘কনফার্মড’ স্ট্যাম্প দিয়ে দিয়েছে! যদিও তৃণমূলের দাবি, সিপিএম কি গতবারের প্রাপ্তভোট ভুলে গিয়েছে? ওদের ঝুলিতে পড়েছিল মাত্র ১৪ হাজার ৪৯০। বিজেপি পেয়েছিল ৫৩ হাজার ২৭৮। সেখানে সুবোধ অধিকারী পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৬২৫টি। ১৩ হাজার ৩৪৭ ভোটে জিতেছিলেন সুবোধ। গত লোকসভা নির্বাচনেও বীজপুরের মানুষ তৃণমূলকে ৯ হাজার ৬৭১ ভোটে লিড দিয়েছিল। তাই সিপিএমও জানে এবার কে কনফার্মড! যদিও সিপিএম প্রার্থী দেবাশিস রক্ষিত বলেন, ‘জেতার জন্যই দাঁড়িয়েছি। আমিই জিতব’। অন্যদিকে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের দাবি, ‘বীজপুরে আমাদের অবস্থা ভালো। এবার আমরাই জিতব’।
প্রচারে ঝড়ের সঙ্গে উন্নয়নের খতিয়ানও দিচ্ছে তৃণমূল। শাসকদলের কথায়, বৃহৎ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ শেষের মুখে। গঙ্গা থেকে জল তুলে সরবরাহ হবে বাড়ি বাড়ি। প্রায় কোটি টাকা খরচ করে সাধক রামপ্রসাদের ভিটে সংস্কারের কাজ চলছে। অসংখ্য খেলার মাঠ ফেন্স দিয়ে ঘেরা হয়েছে। নতুন স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। এলাকার রাস্তা, নিকাশি, নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা প্রভৃতি অনেক কাজ রয়েছে গত ৫ বছরে। আরও একগুচ্ছ কাজ করার পরিকল্পনা আছে। ভোট মিটলেই শুরু হবে। সুবোধবাবু বলেন, ‘আমরা ভোটপাখি নই। সারাবছর সুখে দুঃখে মানুষের পাশে রয়েছি। বীজপুরের মানুষও আমাকে পূর্ণ সমর্থন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন আর এলাকার শান্তি বজায় রাখার কারণে তাঁরা এবারও আমাকে আশীর্বাদ করবেন।’ তৃণমূলের দেওয়াল লিখন। ছবি: শান্তনু বিশ্বাস