প্রথম দফার ১৫২ আসনে প্রচার শেষ, আত্মবিশ্বাসে ফুটছে তৃণমূল
বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রাত পোহালেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ! আগামী কাল, বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। মঙ্গলবারই ছিল প্রথম দফার নির্বাচনি প্রচারের শেষদিন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রচারে ঝড় তোলার চেষ্টা করল তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সহ সমস্ত দল। হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীরা নেমেছিলেন দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে। হলদিয়ার প্রার্থীর সমর্থনে এদিন সুতাহাটায় সভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি সরব হন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বিজেপির ভোট লুট করার পরিকল্পনা নিয়ে। গেরুয়া শিবিরের তামাম ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও জয়ী হবে তৃণমূলই— আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একথা ঘোষণা করেছেন দলনেত্রী। সেই আত্মবিশ্বাস, সেই প্রত্যয় এদিন দেখা গিয়েছে প্রত্যেক তৃণমূল প্রার্থীর চোখে-মুখে। বড়জোড়ার তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে গঙ্গাজলঘাটি ফুটবল ময়দানে সভায় জয়ের আগাম ঘোষণা করে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ও ঝাড়গ্রামের লালগড়ে জনসভা এবং খড়্গপুরের রোড শোয় তাঁর নিশানায় ছিল মোদি-শাহের দল।
বিজেপিও পিছিয়ে ছিল না। পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোড ও পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে সভা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গে, সুকনাতেও। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা রোড শো করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে। কোতুলপুরে রোড শো করার কথা ছিল বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির। কিন্তু লোকজন কম থাকায় তিনি গাড়ি থেকে নামেননি। বীরভূমের হাসনে এদিন কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট। মুর্শিদাবাদের লালগোলা ও বহরমপুরে কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনেও তিনি রোড-শো করেছেন।
শেষদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান বহু প্রার্থী। রামপুরহাট বিধানসভার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন পাঁচবারের বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারে এদিন মিছিল করে রাজ্যের শাসকদল। কোচবিহার উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়, দিনহাটা বিধানসভার প্রার্থী উদয়ন গুহরা টানা প্রচার চালিয়েছেন। বিজেপির কোচবিহারের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসুর প্রচারে এসেছিলেন অভিনেত্রী তথা গেরুয়া সাংসদ হেমা মালিনী। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে তিনি রোড-শোও করেন। পরে ময়নাগুড়িতে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে জনসভায় কয়েক মিনিট ভাষণ দিয়েই হেলিপ্যাডে হাত নেড়ে ফিরে যান। সাংসদ অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ এদিন বীরপাড়ায় তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে রোড-শো করেছেন। পরে ফালাকাটায় পথসভা করেন তিনি। আলিপুরদুয়ারের সলসলাবাড়িতে তৃণমূল প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলালের সমর্থনে রোড-শো করেন অভিনেত্রী জুঁই সরকার।
দার্জিলিং জেলার পাহাড়-সমতলে শেষপর্বের প্রচারে সকাল থেকে ঝাঁপিয়েছিলেন প্রার্থীরা। শিলিগুড়িতে সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ ময়দানে নামেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। মাল্লাগুড়ির দৈনিক নিয়ন্ত্রিত বাজারের স্টলে স্টলে প্রচার করেন। এরপর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পদযাত্রা, হুডখোলা জিপে চলে রোড-শো। বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষও পদযাত্রা করেন। মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে রোড শো ও বাইক মিছিল করেছে তৃণমূল। বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থী পদযাত্রায় নেমেছিলেন। ফাঁসিদেওয়ায় শেষ বেলায় আবারও ময়দান চষে বেড়ান তৃণমূল প্রার্থী। দার্জিলিং, কার্শিয়াং , কালিম্পং পাহাড়েও দিনভর মিছিল, মিটিং হয়েছে।
জলপাইগুড়ি জলপাইগুড়ি ও ধূপগুড়িতে এদিন মহামিছিল করে তৃণমূল। জলপাইগুড়ি আসনের সিপিএম প্রার্থী দেবরাজ বর্মন সকালে চা বাগান থেকে প্রচার শুরু করেছিলেন। পাতকাটা এলাকায় জনসংযোগ করতে দেখা যায় রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মণকে। বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে শহরে মিছিল হয়েছে। ইংলিশবাজারে বিশাল র্যালি করেছে মমতার দল। সিপিএম প্রার্থী প্রচার করেছেন বাজারে।