• রাষ্ট্রশক্তির ভারী বুটকে একা চ্যালেঞ্জ হাওয়াইচটির
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • দেবাঞ্জন দাস, কলকাতা: সাদা শাড়ি-হাওয়াইচটি, বনাম বাংলা দখলে আসা বহিরাগতরা! কে নেই সেই তালিকায়! প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সহ দেড় ডজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, যোগী আদিত্যনাথ সহ এক ডজন মুখ্যমন্ত্রী, জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোম্পানি, ইডি, সিবিআই, এনআইএ, আয়কর দপ্তর, সঙ্গে প্রায় আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী—গোটা রাষ্ট্রশক্তি। বাংলার অস্মিতাকে কেড়ে নিয়ে গোবলয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার ছক। রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিআরপি, আইটিবিপি, সিআইএসএফ, বিএসএফের সাঁজোয়া গাড়ি। অলিগলিতে এখন জওয়ানদের ভারী বুটের শব্দ। সত্যিই কি এভাবে ভারী বুটের নীচে পিষে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি বাংলার প্রাপ্য? এমন দমবন্ধ পরিবেশ তৈরির কারণ কী? শুধুমাত্র বিজেপির পোস্টার বয়ের অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি হিসাবে বাংলার ক্ষমতা প্লেটে সাজিয়ে তুলে ধরা? না হলে প্রধানমন্ত্রী পদে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করার পরও শুধুমাত্র এই একটি রাজ্য যে তাঁর দশ লাখি স্যুটে ‘ব্ল্যাক স্পট’ হয়ে থাকবে। ইতিহাস বারবার দেখাবে, তুমি বাংলার মন পাওনি। আর তাই আজ আর মন পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তৈরি করো যুদ্ধক্ষেত্র। নামিয়ে দাও সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে। কারণ ওই একজন মহিলাকে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না। বাংলার অস্তিত্ব রক্ষায় ভারী বুটের চক্রান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে একজোড়া হাওয়াইচটি। লড়ছেন তিনি। লাগাতার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বাংলা কীভাবে চলবে, বাংলা কী খাবে, বাংলা কী পরবে, কীভাবে করবে ধর্মাচারণ—সেটাই শেখাতে চাইছে বহিরাগতরা। সেটাও কি হাস্যকর নয়? কোনো বানিয়া রাজনীতিক এই মাতব্বরি চালাবে, আর বাংলা সেটা গিলবে... সেটা কোনোদিন হয়নি। এবারও হবে না। সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপালেও না। আর বাংলা এদের মানসিকতা এবং অপদার্থতা বুঝে ফেলেছে। তারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা, কিংবা নেতাজিকে ‘সুভাষচন্দ্র প্যালেস’ বলারই যোগ্য। নতুন সংযোজন অবশ্য নেতাজির ‘আহ্বান’ স্বামীজির বলে চালানো। এরা বাঙালিকে ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে জ্ঞান দেবে? ভোট মিটলে এরাই তো ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাংলাদেশি বলে দেগে দিয়ে এই বাঙালিকেই মারবে। রাতের অন্ধকারে ‘পুশব্যাক’ করাবে। এখন বাংলা দখলের তাগিদে তারা ‘নখ-দাঁত গুটিয়ে’ থাকতে পারে। কিন্তু সেটা ভান মাত্র। 

    মানুষের মননে থাকা মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্রকে পদ্মপার্টি নিজেদের রাজনৈতিক স্লোগানে ব্যবহার করছে বহু বছর ধরে। বাংলায় ‘রামরাজ্য’ হবে, স্বপ্ন ফেরি করতে উড়ে এসেছেন যোগী আদিত্যনাথ। কিন্তু শ্রীরামচন্দ্র যাঁর উপাসক ছিলেন, সেই দেবী দশভুজার রাজ চলে বাংলায়, ‘দুর্গারাজ’। এবার তাই বহিরাগতরা নির্বাচনি সভার শুরুতে কখনও জয় মা দুর্গা, আবার কখনও জয় মা কালী ধ্বনি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে দশ হাতেই এই রাজ্যটাকে ধরে রেখেছেন আর এক নারী। তাঁর কাছে হিন্দু-মুসলমান, মন্দির-মসজিদ আলাদা নয়। শেখের সঙ্গে শক্তির ফারাক করেন না তিনি। এই ন্যারেটিভ যদি ফের প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়, দিল্লির গদিও অটুট রাখা যাবে না। তাই হাল্লা যুদ্ধে নেমেছে। বাংলার বিরুদ্ধে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। চ্যালেঞ্জটা তিনি নিয়েছেন। গণতন্ত্রের দায়রার মধ্যে থেকেই। দার্জিলিং থেকে সাগর। আর এই লড়াইয়ে স্লোগানের তীব্রতা পৌঁছে যাচ্ছে দিল্লি পর্যন্ত—‘জিতবে বাংলাই’।
  • Link to this news (বর্তমান)