• উন্নয়ন হাসি ফুটিয়েছে এলাকাবাসীর মুখে, বিরোধীদের ছাপিয়ে ভোটে এগিয়ে তৃণমূল
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, আমতা: একটা সময় ছিল, যখন বর্ষায় বাইনান বাজার লাগোয়া রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ত। রথতলা পর্যন্ত অপরিসর রাস্তা রীতিমতো বিভীষিকা ছিল। কাদাজলে এক হাঁটু অবস্থা। তবে সেসব এখন অতীত। বাজারের অনেক আগে থেকেই যে উঁচু ঢালাই রাস্তা হয়েছে, তা ভুলিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসীর দুর্দিন। চওড়া হয়েছে রাস্তা। আলো বসেছে। গ্রামের একেবারে অন্দরমহলের এই উন্নয়ন হাসি ফুটিয়েছে এলাকাবাসীর মুখে। এটি একটি নমুনামাত্র। আমতা বিধানসভা এলাকার আনাচে-কানাচে উন্নয়ন এভাবেই ছুঁয়ে গিয়েছে ভোটারদের। 

    ভোটের আগে কোথায় কী কাজ বাকি পড়ে আছে, এখন তার খোঁজ করছেন তৃণমূল প্রার্থী সুকান্ত পাল। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব঩ন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে আমতাবাসীকে আরজি জানিয়েছিলেন, এবার তৃণমূলকে দায়িত্ব দিয়ে দেখুন। এলাকার মানুষ সেই আরজি রেখেছেন। আমিও চেষ্টা করেছি নিজের দায়িত্ব পালন করার। তারপরও যদি উন্নয়নের কোনো কাজ বাকি পড়ে থাকে, তা আগামী দিনে শেষ করব।’ আমতা বিধানসভা এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাঁটা ছিল ভাটোরা দ্বীপাঞ্চল পর্যন্ত ব্রিজ। বাঁশের নড়বড়ে ব্রিজই ছিল মুণ্ডেশ্বরী পারাপারের মাধ্যম। সেখানে ৩৭ কোটি টাকা খরচে যে ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, তাকে উন্নয়নের খতিয়ানে সামনের সারিতে রাখছে শাসকদল। সুকান্তবাবুর কথায়, সেখানে ৭০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে পানীয় জল সরবরাহে যে তাঁর বিধানসভা এলাকা বাকি রাজ্যের নিরিখে এগিয়ে আছে, সেকথাও বলছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘যদি রাজ্যের ৬০ শতাংশ বাড়িতে পানীয় জল সরবরাহের কাজ শেষ হয়, তাহলে এখানে তা ৯০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে।’ পাশাপাশি তাঁর আশ্বাসবাণী, যদি জল নিয়ে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে তিনি শুধু আমতা বিধানসভা এলাকার জন্যই আলাদা হেল্পলাইন চালু করবেন। সাফল্যের খতিয়ানে রাস্তাঘাট, আলোর পাশাপাশি নতুন ২০টি আইসিডিএস কেন্দ্র, পুরানো প্রায় ১০০টির মানোন্নয়ন, হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, ১০ বেডের হাসপাতাল তৈরির অনুমোদন প্রভৃতিকে এগিয়ে রাখছেন তিনি।

    যদিও বিরোধীরা এসব আমল দিতে নারাজ। সিপিএম প্রার্থী জসিমউদ্দিন মল্লিকের খোঁচা, উন্নয়ন তো হয়েছেই, তবে তা বিধায়কের উন্নয়ন। পাঁচ বছর আগের ও এখনকার সম্পত্তির হিসাব কষলেই সেটা বোঝা যাবে। তাঁর কথায়, আসলে তৃণমূল তার নিজের উন্নয়ন নিয়েই ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের দিকে তাদের দেখার সময় নেই। বরং বছরভর সাধারণ মানুষের পাশে বিপদ আপদে বাম কর্মীরাই থেকেছেন। তাই এবার এখানে তাঁদের জয় ছিনিয়ে নেওয়া আদৌ কঠিন নয়, এমনই বিশ্বাস রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী অমিত সামন্তের খোঁচা, তৃণমূলের পারিবারিক উন্নয়ন আর মানুষ মেনে নিচ্ছেন না। পরিকাঠামোগত যে উন্নয়নের কথা তৃণমূল প্রচার করছে, তাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, নতুন করে রং করে দিলেই যদি উন্নয়ন হয়ে যেত, তাহলে তো আর কথাই নেই। উদাহরণ দিয়ে তাঁর বক্তব্য, এখানে হাসপাতালের মান বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। অথচ একজন ভালো এমডি বা এমএস ডাক্তার এখানে আসেন না। রোগী আশংকাজনক হলে যদি উলুবেড়িয়া বা হাওড়া সদরে ছুটতে হয়, তাহলে তাকে উন্নয়ন না বলাই ভালো। 

    আমতা বিধানসভায় দীর্ঘদিন বিধায়কের দায়িত্ব সামলেছেন কংগ্রেস নেতা অসিত মিত্র। ২০২১ সালে এটি তৃণমূলের দখলে এলেও, অসিতবাবুর ব্যক্তি ক্যারিশমা এখনও রয়ে গিয়েছে। এলাকার অনেকেই বলছেন, এবার কংগ্রেস তপন দাসকে প্রার্থী করায়, অসিতবাবুর শিবিরের লোকজনের একাংশের গোঁসা হয়েছে। তাই তাঁরাও চাঁদ সওদাগরের মতো বাঁ হাতে মনসা পুজোর ঢঙে গোপনে জোড়াফুলের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ভোট বাজারে সুকান্তবাবুর এইটুকু রাজনৈতিক বোনাস তা‌ই বাড়তি পাওনা।   
  • Link to this news (বর্তমান)