• ক্যান্সার ইউনিটই ‘গেম চেঞ্জার’ শহরতলিতে, ২০০ কোটিতে পরিকাঠামোর আমূল সংস্কার সাগর দত্তে
    বর্তমান | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: আধুনিক মানের ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে গত এক দশকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচের সুফল পাচ্ছে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। উত্তর শহরতলির অন্যতম ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রতিদিন গড়ে ১৩ থেকে ১৪ হাজার রোগী চিকিৎসা পেতে হাজির হচ্ছেন এখানে। রাজ্যের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী সংখ্যার নিরিখে কখনও তৃতীয়, কখনও চতুর্থ স্থানে থাকছে সাগর দত্ত। আগামী দিনে কার্ডিওলজি ও নিউরোলজি বিভাগ তৈরির জন্য নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে জোরকদমে। সার্বিক রোগী পরিষেবা থেকে অন্যান্য পরিকাঠামো—বদলে যাওয়া সাগর দত্ত হাসপাতালের এই চিত্র এবারের ভোটে ঘাসফুল শিবিরের বড় বাজি। তৃণমূল প্রার্থীরা প্রচারেও তুলে ধরছেন চিকিৎসা পরিষেবায় এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ছবি। 

    ২০১০ সালে কামারহাটিতে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ তৈরি হয়। বাম জমানায় ওই মেডিকেল কলেজে পরিকাঠামো বলতে তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু গত ১৫ বছরে বদলে গিয়েছে এই হাসপাতাল। গত পাঁচ বছরে এমবিবিএস ও এমডি পাঠ্যক্রমে ২০০-র বেশি আসন বেড়েছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হল টার্সিয়ারি ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার। ২০২৩ সালে  ৩০ শয্যার পাঁচতলা ভবন তৈরি হয়েছে। ওই ভবনের দু’টি তল আন্ডারগ্রাউন্ডে। প্রথমে কেমোথেরাপির ব্যবস্থা থাকলেও রেডিওথেরাপি ছিল না। তাই বহু রোগীকে কলকাতায় রেফার করা হচ্ছিল। সম্প্রতি প্রায় ৫২ কোটি টাকা খরচে রেডিওথেরাপির তিনটি আধুনিক মেশিন বসেছে। রেডিওথেরাপির এই ইউনিটের জন্য এক জন রেডিয়েশন সেফটি অফিসার, চারজন রেডিওথেরাপিস্ট নিয়োগও সম্পন্ন। এছাড়া পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি (পেট) স্ক্যান, এমআরআই সহ আরও প্রায় ৬০ কোটির মেসিন বসানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হলে শুধু কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নয়, পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার হাসপাতালের মতো এখানে ক্যান্সার রোগীর অপারেশন সহ সমস্ত ধরনের চিকিৎসা মিলবে। শুধু তাই নয়, ডাক্তারি পড়ুয়াদের জন্য নতুন হস্টেল, চারতলা নতুন হাসপাতাল ভবন, নতুন পুলিশ ফাঁড়ি, হাসপাতালের বাইরে পৃথক ক্যান্টিন তৈরি হচ্ছে। হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, প্যাথোলজি, ল্যাবরেটরি সহ সমস্ত জায়গায় পরিষেবা পাওয়া সহজ হওয়াতেই রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান বলেন, ‘পরিকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিষেবা উন্নত করা হয়েছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে ১৩ থেকে ১৪ হাজার রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন। আর ক্যান্সার কেয়ার ইউনিট আগামীর গেম চেঞ্জার!’  কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র বলেন, ‘বাম জমানার ইট-কাঠের জঙ্গল সরিয়ে এখন পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের রূপ পেয়েছে সাগর দত্ত। দ্রুত চালু হবে কার্ডিওলজি ও নিউরোলজি বিভাগ।’ সিপিএম প্রার্থী মানস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের হাতে তৈরি সাগর দত্ত হাসপাতালে এখন দালালরাজের রমরমা। এই হাসপাতাল এখন রেফার হাসপাতাল হিসাবে কাজ করছে। চিকিৎসা পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। মানুষ জবাব দিতে প্রস্তুত।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)