নেপাল মানে শুধু এভারেস্ট বা অন্নপূর্ণা ট্রেক নয়, তরাই অঞ্চলের ঘন অরণ্যে ঘেরা চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্কও পর্যটকদের কাছে সমান আকর্ষণীয়। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নেপালের এই জাতীয় উদ্যানটি বর্তমানে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। মূলত একশৃঙ্গ গণ্ডার (One-horned Rhino) সংরক্ষণের জন্য এই পার্কটি বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত।
৯৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যানে দেখা মেলে নানা বিচিত্র প্রাণীর। তবে চিতওয়ানের মূল আকর্ষণ হলো একশৃঙ্গ গণ্ডার। কাজিরাঙার পর এখানেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় প্রাণীটিকে দেখা যায়। ভাগ্য সহায় হলে গভীর জঙ্গলে দেখা হয়ে যেতে পারে দক্ষিণরায়ের সঙ্গেও। এ ছাড়া রাপ্তি নদীতে ক্যানোয়িং করার সময় নদীর পাড়ে রোদ পোহাতে দেখা যায় প্রচুর ঘড়িয়াল এবং কুমির। বার্ড ওয়াচারদের জন্য এই ফরেস্ট স্বর্গরাজ্য। প্রায় ৪৫০ প্রজাতিরও বেশি দেশি ও পরিযায়ী পাখির আনাগোনা রয়েছে এই অরণ্যে।
১. জঙ্গল সাফারি: জিপ সাফারির মাধ্যমে বনের গভীরে ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
২. ক্যানোয়িং: রাপ্তি নদীতে নৌকায় চড়ে কুমির দেখা এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন।
৩. থারু সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা: ফরেস্ট লাগোয়া বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। যেখানে স্থানীয় থারু উপজাতির বসবাস। তাঁদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি জানতে হলে পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখতে পারেন গ্রামগুলি।
৪. এলিফ্যান্ট ব্রিডিং সেন্টার: এখানে হাতিদের জীবনযাপন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে।
চিতওয়ান ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এই সময়ে খুব একটা বৃষ্টি হয় না। আবহাওয়া মনোরম থাকলে বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা বাড়ে। গরমের সময়টা (এপ্রিল-জুন) একটু অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে এই সময়ে পশুপাখিরা জল খেতে নদীর ধারে আসে। তাই সাফারির জন্য এটি দারুণ সময়।
হাওড়া থেকে ট্রেনে রক্সৌল জংশন পৌঁছতে পারেন। এ ছাড়া কলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে কাঠমান্ডুও পৌঁছতে পারেন। সেখান থেকে বাস অথবা ট্যাক্সিতে ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে চিতওয়ান আসা যায়। না হলে কাঠমান্ডু থেকে আবার বিমানে ভরতপুর পৌঁছে সেখান থেকেও পার্কের মূল প্রবেশদ্বার ‘সৌরহা’ পৌঁছনো যায়। হাতে সময় থাকলে নিজে গাড়ি চালিয়েও আসতে পারেন। তবে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।