• পহেলগাম হামলার পরে ঘুরেছে খেলা, কাশ্মীরের পাহারায় এখন ‘স্নো লেপার্ড’, ‘মারখোর’
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: পহেলগাম হামলার এক বছর পরে খেলা ঘুরে গিয়েছে বলে দাবি জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী অফিসারদের। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচ্চপদে কর্মরত এক কর্তা বলেন, ‘বৈসরনে হামলার পরে উপত্যকায় গোটা পটভূমিই বদলে গিয়েছে। আগে জঙ্গিরা পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীকে খুঁজত হামলার জন্য, এখন আমরা ওদের খুঁজছি। এর ফল—গত এক বছরে কাশ্মীরে কোনও বড় হামলা হয়নি।’ ইতিমধ্যেই কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। পহেলগাম-সহ সব পর্যটনকেন্দ্রে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স। এ ছাড়া পর্যটনকেন্দ্র লাগোয়া গ্রামগুলিতে তন্নতন্ন করে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। সব প্রধান রাস্তায় রয়েছে একাধিক সিকিউরিটি চেক পয়েন্ট।

    পহেলগাম হামলার পরে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ দু’টি আলাদা কাউন্টার টেররিজ়ম ইউনিট তৈরি করেছে — ‘স্নো লেপার্ড’ এবং ‘মারখোর’৷ এর মধ্যে ‘মারখোর’ (সাপ-শিঙি বনছাগল) আবার পাকিস্তানের জাতীয় পশুও বটে। ‘স্নো লেপার্ড’ ইউনিটের মূল কাজ হলো পাহাড়ের মাথায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গি এবং তাদের ডেরার হদিশ খুঁজে বের করে সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের জয়েন্ট অপারেশনে সহায়তা করা৷ আর ‘মারখোর’ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা গভীর জঙ্গলে লুকোনো জঙ্গিদের নিকেশ করতে৷ এই দু’টি ইউনিট ২৪ ঘণ্টাই অপারেশনে থাকে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি, দু’টি ইউনিটই দুরন্ত পারফর্ম করছে।

    এনআইএ সূত্রের খবর, পহেলগাম তদন্ত এখনও ক্লোজ় করা হয়নি। এ পর্যন্ত ১,১১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন ৫৪৩ জন গুজ্জর ও বাকেরওয়াল, ১১৭ জন পনিওয়ালা, ৬৭ জন ঘোড়ার মালিক, ৫২ জন স্থানীয় খাবার বিক্রেতা, ১৯ জন দোকানদার, ৪২ জন ফোটোগ্রাফার, ৩১ জন শাল বিক্রেতা, টিকিট কাউন্টার ও জিপ লাইনের ৩৬ জন কর্মী, ২৫ জন ট্যাক্সি ড্রাইভার এবং ২৩ জন অন্য ব্যক্তি৷ হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনকে হেফাজতে নিয়েছে এনআইএ।

  • Link to this news (এই সময়)