আশিস নন্দী
তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে প্রচারের পারদ। পদযাত্রা, জনসভা নানা উপায়ে চলছে প্রার্থীদের জনসংযোগ। কিন্তু সক্কলের কাছে পৌঁছনো অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের কাছে পৌঁছতে নতুন পথ ধরেছেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূলপ্রার্থী রথীন ঘোষ। যে সব এলাকায় এখনও যেতে পারেননি, সেখানকার ভোটারদের মোবাইলে ভয়েস মেসেজ পাঠাচ্ছেন তিনি। গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপও করছেন। রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের বাকি আর দিন সাতেক। বিদায়ী বিধায়ক রথীনের দাবি, এই 'হাইটেক' প্রচারে ইতিমধ্যেই বেশ ক'লক্ষ ভোটারের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছেন।
এ কাজে একটি এজেন্সিকে বরাত দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে অনেকের নম্বর ছিলই, প্রার্থীও মধ্যমগ্রামের বহু ভোটারের ফোন নম্বর দিয়েছেন এজেন্সিকে। নম্বরগুলিতে পৌঁছে যাচ্ছে রথীনের ভয়েস মেসেজ। কী বলছেন? প্রার্থীর আবেদন 'আপনার কাছে কোনও কারণে পৌঁছতে পারলাম না। নিবার্চনের দিন আমাকে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করবেন। জোড়াফুল প্রতীকে ভোট দেবেন।' সঙ্গে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করে গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান-সহ ভিডিয়ো পাঠাচ্ছেন রথীন। তাঁর কথায়, 'ব্যক্তিগত ভাবে সকলের কাছে যেতে পারছি না। তাই ভয়েস মেসেজে মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রের প্রতিটি ভোটারের কাছে ভোট চাইছি। উন্নয়নের ভিডিয়োও পৌঁছে যাচ্ছে।'
২০১১ থেকে রথীন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক। এ বারও দাঁড়িয়েছেন ওই কেন্দ্রে। প্রচারের প্রাথমিক পর্বে পুরসভা ও পঞ্চায়েত ধরে 'চাটাই বৈঠক', কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত মিটিংয়ে প্রস্তুতি সেরেছেন। দ্বিতীয় পর্বে পুরসভার দু'টি করে ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করেছেন রোজ সকালে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচার সেরেছেন পঞ্চায়েত এলাকায়। এ বার জোর দিয়েছেন র্যালি এবং এলাকাভিত্তিক জনসংযোগে। প্রবল গরমে সকাল-বিকেল ঘাম ঝরিয়েও পুরসভা ও পঞ্চায়েতের প্রতিটি বাড়ি বা মহল্লায় যেতে পারেননি। সেই খামতি পূরণ করতেই নয়া কৌশল তাঁর।
এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ আইএসএফের প্রিয়াঙ্কা বর্মন। রথীনের মতো হাইটেক প্রচারে তিনি নেই। তাঁর সমর্থনে রবিবারই প্রচার করে গিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি। প্রিয়াঙ্কার কথায়, 'উনি (রথীন) যতই হাইটেক প্রচারের কৌশল নিন না কেন, মধ্যমগ্রামে এ বার খামবন্দি হবে জোড়াফুল।'