এই সময়: একের পর এক বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে নির্বাচন কমিশন। যেখানে এখন ভোট নেই, সেখানেও মদের দোকান বন্ধ, সন্ধের পরে মোটরবাইকে নিষেধাজ্ঞা, আবাসনের ফ্ল্যাটে আত্মীয় থাকলে তিনি বেরতে পারবেন না তালিকা দীর্ঘ।
মঙ্গলবার সন্ধেয় তার সঙ্গে যোগ হলো গোটা জেলায় ১৬৩ (পূর্বতন ১৪৪) ধারা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে নির্বাচন কমিশন। কাল, ২৩ এপ্রিল রাজ্যের প্রথম দফায় ভোট রয়েছে এই জেলায়। এই জেলারই অন্যতম কেন্দ্রের নাম- নন্দীগ্রাম।
জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের নির্দেশ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছ'টা থেকে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোটা জেলায় ১৬৩ ধারা জারি থাকবে। তার মধ্যে নিয়ম ভাঙলে জেল ও জরিমানা হতে পারে। এমনিতেই মঙ্গলবার সন্ধে ছ'টায় ওই জেলার প্রচার শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে, নতুন করে সভা-মিছিল হওয়ার কথা নয়। তবে, নতুন লাগু করা ধারার ফলে, যাঁরা এই জেলার ভোটার নন, তাঁদের অবিলম্বে জেলা ছাড়তে হবে। কোথাও পাঁচ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না।
এর সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের সঙ্গে ওডিশা সীমানা এলাকায় বেনজির কড়াকড়ির কথাও জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি পণ্য এবং অসুস্থ মানুষদের বাইরে আর কাউকে সীমানা পেরিয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধের পর থেকে ওডিশা সীমানা পেরিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে ঢোকা প্রতিটি গাড়ির আপাদমস্তক তল্লাশিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন জেলা জুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা? অভিজ্ঞ প্রশাসকদের দাবি, যে জেলায় নির্বাচন ঘিরে অশান্তি, গন্ডগোলের আশঙ্কা থাকে, সেখানে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারির চল রয়েছে। এর আগেও হয়েছে। তবে, সাধারণত প্রতিটি বুথ ঘিরে বেনজির নিরাপত্তা থাকে। এখন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীও টহল দিচ্ছে এলাকায়। তার পরেও নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করতে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। তারই অঙ্গ হিসেবে আপাতত দিঘাতেও আসতে বারণ করা হয়েছে পর্যটকদের। কমিশনের নির্দেশে মঙ্গলবার থেকে বুকিং বন্ধ রেখেছে হোটেল। দিঘা ছাড়াও তাজপুর, মন্দারমণি, শঙ্করপুরের হোটেলেও ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও বহিরাগত থাকতে পারবেন না-নির্দেশ জেলা প্রশাসনের। যাঁরা ছিলেন, তাঁদের হোটেল ছেড়ে যেতে বলেছে হোটেল সংগঠনগুলি। জেলার সমস্ত মদের দোকানও ২৩ তারিখ পর্যন্ত টানা চার দিন বন্ধ থাকছে। এতে মাথায় হাত পড়েছে হোটেল মালিকদের পাশাপাশি সুরাপ্রেমীদেরও।
হোটেল মালিকদের অভিযোগ, আগে ভোটের সময়ে ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এ বার তা ৭২ ঘণ্টা করা হয়েছে। শুধু হোটেল নয়, এর জন্য পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছোট-বড় দোকানদারদেরও ক্ষতি হবে। রুটিরুজিতে টান পড়বে স্থানীয় মানুষদের। সোমবার বন্ধুদের সঙ্গে দিঘা এসেছিলেন বহরমপুরের সুকোমল বিশ্বাস। বলেন, 'মঙ্গলবার সকালে দিঘা পৌঁছে জানতে পারলাম হোটেলে বুকিং বন্ধ। রাতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খোঁজ নিয়ে আসলে ভালো হতো।'
দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, 'টানা তিন দিনে দিঘার পর্যটন শিল্প ধাক্কা খাবে। তবে পর্যটক না থাকলে হোটেলে মদের চাহিদাও থাকবে না। এ বার কড়াকড়ি একটু বেশি।' হোটেল সংগঠনগুলির কথায় এই সময়ে এমনিতেই পর্যটকের সংখ্যা কম থাকে। সোমবার উইকএন্ডের ছুটি কাটিয়ে ফিরে গিয়েছেন অনেকে।
আর যাঁদের নিত্য মদ না হলে মুশকিল তাঁরা বেকায়দায় পড়েছেন। অনেকেই ভেবেছিলেন ভোটের দু'দিন মদের দোকান বন্ধ থাকবে। সমস্যা হবে না। তাই অগ্রিম কিনে রাখেননি। আচমকাই সোমবার বিকেল থেকে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আতান্তরে পড়েছেন।