• বনগাঁর পরিবর্তে স্থান পাল্টে মোদীর সভা ঠাকুরনগরে, যাবেন কাকদ্বীপেও
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, ঠাকুরনগর ও কাকদ্বীপ: বনগাঁর পরিবর্তে মতুয়াগড় ঠাকুরনগরেই নির্বাচনী জনসভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২৬ এপ্রিল ঠাকুরনগরে সভা করবেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি পরিবর্তন হওয়ার পরেই ব্যস্ততা শুরু হয়েছে ঠাকুরবাড়িতে। ঠাকুরবাড়ি লাগোয়া মাঠেই প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল ঠিক হয়েছে। মোদীর সভা নিয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থক ও মতুয়াদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আগামিকাল মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সাগর, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, কুলপি, রায়দিঘি এবং মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন মোদী। রাজ্যে প্রথম দফায় নির্বাচনের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকেই তাকিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহল।

    ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি ঠাকুরনগরে এসেছিলেন মোদী। তখন বেঁচেছিলেন বড়মা বীণাপাণি ঠাকুর। বড়মার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয়েছিল তাঁর। সাত বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে ফের ঠাকুরনগরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। আগে ঠিক ছিল বনগাঁয় এসে জনসভা করবেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিবর্তন হয়ে হয়েছে ঠাকুরনগর। আগামী ২৬ এপ্রিল গাইঘাটা, বনগাঁ উত্তর, দক্ষিণ এবং বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের চার বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই চার কেন্দ্রের মধ্যে গাইঘাটা এবং বাগদা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন ঠাকুরবাড়ির সদস্য সুব্রত ঠাকুর এবং কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। এ দিন প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিবর্তন হওয়ার পরেই বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীদের নিয়ে ঠাকুরবাড়িতেই বৈঠক করেন গাইঘাটা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা সুব্রত ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘২৬ এপ্রিল ঠাকুরবাড়ির লাগোয়া মাঠেই নির্বাচনী সভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

    কমিশনের খসড়া তালিকা থেকে আগেই বনগাঁর চার কেন্দ্র থেকে বাদ গিয়েছিল ৩৬ হাজার ৮৯৯ জন। বিচারাধীন ছিলেন ৬১ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে বাদ গিয়েছে ৪৮ হাজার ৪৯৩ জন। খসড়া এবং বিচারাধীন মিলিয়ে মতুয়াগড় থেকে নাম বাদ গিয়েছে ৮৫ হাজার ৩৯২ জন। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি মতুয়া। ভোটাধিকার হারিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ রয়েছে মতুয়াদের।এই পরিস্থিতিতে ঠাকুরনগরের সভা থেকে তিনি কী বার্তা দেন, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা মতুয়া সমাজ।

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব কাকদ্বীপে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা দফায় দফায় সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সভাস্থলের কাছেই তিনটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। শুরু হয়েছে হেলিকপ্টার অবতরণের মহড়া। কাকদ্বীপের বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানার তত্ত্বাবধানে চলছে মঞ্চ বাঁধার কাজ। ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে কাকদ্বীপের তৃণমূল প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরার কাছে পরাজিত হলেও মাটি কামড়ে পড়েছিলেন দীপঙ্কর। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চ বাঁধার প্রস্তুতি চলছে। সমস্তটাই আমি এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব দেখভাল করছি।’

    এ দিন সভাস্থল পরিদর্শনে এসে বিজেপি নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, ‘২০২৪-এর নির্বাচনের সময় এখানে মোদীজির সভায় জনসমুদ্র আছড়ে পড়েছিল। এ বারও যে পরিমাণ মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা খবর পাচ্ছি, তাতে সকলকে মূল সভাস্থলে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’ তৃণমূল প্রার্থী মন্টুরাম পাখিরা বলেন, ‘ভোট এলেই পরিযায়ী পাখির মতো বহিরাগতদের এ রাজ্যে দেখতে পাওয়া যায়। আর ভোট চলে গেলেই এদের আর পাওয়া যায় না। আমরা সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। বাইরে থেকে লোক এনে বিজেপির মাঠ ভরাতে হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)