কলকাতা নাকি যুদ্ধক্ষেত্র! ভোট সামলাতে মহানগরে ২২ হাজার আধাসেনা, রাস্তায় ১০হাজার পুলিশ
প্রতিদিন | ২২ এপ্রিল ২০২৬
ভোট সামলাতে কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ ভোটের আগে ও ভোটের দিন শহরের প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্র তথা বুথ ও রাস্তায় থাকছে প্রায় ২২ হাজার আধা সামরিক বাহিনী। এছাড়াও প্রায় ১০ হাজার পুলিশ নামছে রাস্তায়। এদিকে, ভোটের সময় যাতে শহরে কোথাও ট্রাবল মঙ্গার বা দাগি দুষ্কৃতীরা গোলমাল করতে না পারে, সেজন্য তালিকা ধরে চলছে তল্লাশি।
মঙ্গলবার লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে কলকাতার দাগি ম্যান্ডেলা, বল্টু-সহ চারজন। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এদিন দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের জয়দেব মালাকার ওরফে ম্যান্ডেলা, পঞ্চসায়রের মিন্টু ঘরামি ওরফে বল্টু, বাঁশদ্রোণীর অর্পণ চক্রবর্তী ও একবালপুরের শাহদাত হোসেন ওরফে শাকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র নিয়ে হামলা, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। অন্য ট্রাবল মঙ্গারদেরও সন্ধান চলছে। এদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের হাতে ২৪টি অস্ত্র, ৬৭টি বুলেট, ১৭২টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। ভোটের আগে টাকা পাচার হওয়ার সময় গাড়ি আটক করে পুলিশ ১ কোটি ৭১ লাখ ২ হাজার ১০২ টাকা ও যৌথ টিম ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫০ টাকা, ৪৭৭.৭২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় ১৯৬১টি ভোটকেন্দ্রে রয়েছে মোট ৫১৭২টি বুথ। শহরে থাকছে ৩৫১টি সেক্টর মোবাইল। এছাড়াও ১৬০টি আরটি মোবাইল, ২২৯টি কুইক রেসপন্স টিম, ৮০টি হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, ৩০৬টি অতিরিক্ত কুইক রেসপন্স টিম ও নাকা, তিনটি করে শিফটে ৫৭টি ফ্লাইং স্কোয়াড, ৫৭টি এসএসটি, ৮০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে। এবার প্রত্যেকটি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াডের দায়িত্বে থাকছেন একজন করে ইন্সপেক্টর ও একজন করে সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। ১৭২ জন ইন্সপেক্টর মোতায়েন করা হচ্ছে।
সেক্টর মোবাইল, কুইক রেসপন্স টিম ও অতিরিক্ত কুইক রেসপন্স টিমের দায়িত্বেও থাকছেন একজন করে সাব ইন্সপেক্টর। ১৯৩৮ জন সাব ইন্সপেক্টর মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও মোতায়েন করা হচ্ছে ২৪৮৬ জন সশস্ত্র কনস্টেবল-সহ ৭২৪১ জন কনস্টেবল। মূলত এসএসটি, এফএস ও অতিরিক্ত কুইক রেসপন্স টিমে থাকছে ৩২৪ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী। এছাড়া বাকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় পুরোটাই থাকবে ভোটকেন্দ্র তথা বুথের নিরাপত্তায়। এছাড়াও লাঠিধারী পুলিশ কনস্টেবল বুথের নিরাপত্তার কাজে থাকবে। যদিও সশস্ত্র পুলিশকর্মী বা আধিকারিক ভোটকেন্দ্রে থাকছেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।