এই সময়: রাত পোহালেই উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শ্রমিকরা ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে বিপুল ভিড়। কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মালদায় একই ছবি।
কোচবিহার
'সার'-এর আবহে ভোট না দিলে যদি ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ যায়, তাই ফিরছেন সকলে। মেখলিগঞ্জ বিধানসভার ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর রায় বলেন, 'আমি কেরালায় রাজমিস্ত্রির কাজ করি। আমাদের এলাকার প্রায় ৪০০ জন বিভিন্ন রাজ্যে কাজে গিয়েছেন। সবাই ভোট দিতে ফিরে আসছেন।' কেরালায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করা বিকাশ রায় নামে এক পরিযায়ী বলেন, 'যদি রাজ্যে সরকার বদল হয় তা হলে হয়তো আমাদের আর ভিন রাজ্যে যেতে হবে না। তাই ভোট দিতে এলাম।' রাজু রায় নামে আর এক পরিযায়ী জানান, দিল্লি থেকে তাঁরা ৩০ জন ভোট দিতে বাড়ি ফিরে এসেছেন। জামালদহের বাসিন্দা পল্টু সরকার বলেন, 'এ বার সার হয়েছে। ভোট না দিলে যদি সমস্যা হয়, তাই আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেও কাজের জায়গা থেকে চলে এসেছি।'
দক্ষিণ দিনাজপুর
প্রথম দফার ভোট দিতে ভিন রাজ্যে থেকে বাস ভাড়া করে গ্রামে ফিরলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালে কুশমন্ডিতে পরিযায়ী শ্রমিক ভর্তি বাস দিল্লি থেকে এসে পৌঁছয়। এ ছাড়া একাধিক গাড়িতে গঙ্গারামপুর, বংশীহারিতে আসেন অনেক পরিযায়ী। কুশমন্ডির পরিযায়ী শ্রমিক রেজ্জাক মণ্ডলের কথায়, 'রুজির টানে বাইরে থাকতে হয় ঠিকই। কিন্তু ভোট দেওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগ করতেই আমরা বাড়ি ফিরেছি। ট্রেনের টিকিট পাইনি। তাই গাড়ি ভাড়া করে ভোট দিতে এসেছি।' তৃণমূল নেতা মুজাফর হোসেন বলেন, 'ওঁরা ট্রেনের টিকিট পাননি। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ওঁদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দিলাম।'
মালদা
মালদা টাউন স্টেশনের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফেরার জন্য ভিড় করেছিলেন। পর্যাপ্ত গাড়ি না মেলায় বিভিন্ন যানবাহনে বাদুড়ঝোলা হয়ে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মালদার ইংরেজবাজার শহরের টাউন স্টেশন এবং গাবগাছি এলাকার গৌড়কন্যা বাস টার্মিনাস এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকদের লোটাকম্বল হাতে নিয়ে ভিড় করতে দেখা যায়। কেউ এসেছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে, আবার কেউ এসেছেন মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা ও গুজরাত থেকে।
জেলা শ্রম দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, মালদার সরকারি নথিভুক্ত প্রায় তিন লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। এর বাইরে আরও লক্ষাধিক শ্রমিক রয়েছেন, যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করাননি। মালদা টাউন স্টেশন থেকে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের জেনারেল কামরায় গাদাগাদি করে ফেরে পরিযায়ী শ্রমিকের দল। তাঁরা বলেন, 'সার নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম। যখন ভোটে নাম রয়েছে, তখন ভোট দেওয়াটাও অত্যন্ত প্রয়োজন।'