শীর্ষেন্দু দেবনাথ
৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা হয়েছিল আগেই। কিন্তু বাস্তবে এপ্রিলের মাইনে ঢুকবে বর্ধিত ডিএ ছাড়াই। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনও সরকারি অর্ডার জারি না হওয়ায়, একাধিক দপ্তর বাধ্য হয়ে পুরোনো হারেই বেতনের বিল তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই বহু কর্মীর মোবাইলে মাইনে ঢোকার আগাম মেসেজও পৌঁছে গিয়েছে— সেখানেও নেই বাড়তি ডিএর ছাপ। বাকিরাও বুধবার সকাল থেকে ডিএ-র টাকা যোগ ছাড়াই বিল করতে শুরু করেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, Drawing and Disbursing Officer (DDO)-রা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিল না পাঠালে বেতন আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অর্ডার না এলেও বিল তৈরি করে তা কলকাতায় Pay and Accounts অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলাগুলিতে সেই বিল গিয়েছে ট্রেজ়ারিতে। নিয়ম অনুযায়ী, একবার বিল পাশ হয়ে গেলে নতুন করে সংশোধনের সুযোগ থাকে না বললেই চলে।
এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, এপ্রিল মাসে ডিএ-সহ মাইনে পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। কর্মীদের একাংশের মতে, ঘোষণার পরেও ডিএ না মেলায় হতাশা বাড়ছে। রাজ্যের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, ডিএ বৃদ্ধির ফাইল কমিশনে পাঠানো হলেও এখনও চূড়ান্ত ছাড়পত্র মেলেনি। সেই কারণেই অর্ডার জারি করা সম্ভব হয়নি।
ভোটপ্রচারে গিয়ে মঙ্গলবারই এই ডিএ আটকে থাকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ‘বাজেটে বলেছিলাম, ৪ শতাংশ ডিএ দেবো। নির্বাচন কমিশন সেই ফাইল আটকে রেখেছে। আমি বলব, সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে দ্রুত ফাইল ছাড়ুন। এটা আপনাদের কাছে যাওয়ারই কথা নয়। কারণ এটা ভোটের আগের ঘোষণা।’
সেই সভা থেকেই মমতা আশ্বস্ত করেছেন, নতুন ভাবে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ এপ্রিলের বেতনের সঙ্গেই পাবেন সরকারি কর্মীরা। তবে এখনও পর্যন্ত যাঁরা মেসেজ পেয়েছেন, তাঁদের কাছে ৪ শতাংশ ডিএ-সহ বেতনের অঙ্কের হিসেব আসেনি।