রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমসাময়িক। তাঁর অনুভূতি, আদর্শ বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ভীষণ প্রাসঙ্গিক। ‘শেষের কবিতা’র কথাই ধরা যাক। প্রেমের উপন্যাস মানেই যে মিলনে তার পরিসমাপ্তি, এমন নয়। কখনও বিচ্ছেদেই প্রেম পূর্ণতা পায়। এই লেখায় প্রেমকে এক অন্য আঙ্গিকে দেখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। প্রেম, বিয়ের যে ঐতিহ্যবাহী ধারণা, তাকেই চ্যালেঞ্জ করে এই উপন্যাস। অমিত, লাবণ্য ও কেটির ত্রিকোণ প্রেমের পরিণতি বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতেও সমসাময়িক। তা মনে রেখে ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসকেই আবার ফিরে দেখার প্রয়াস ‘দ্যা ফেয়ারওয়েল লেটার’। পাঠ, অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে শহরে ইংরেজিতে প্রথমবার মঞ্চায়ন হতে চলেছে ‘শেষের কবিতা’।
এক সময় পাঠ এবং অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে ‘শেষের কবিতা’কে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বিকাশ রায়। সৌমিত্রর ব্যারিটোন কণ্ঠ ‘অমিত রে’কে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছিলেন বাঙালি হৃদয়ে। পরবর্তীতে সুমন মুখোপাধ্যায়ের পাঠ, অভিনয়ে ‘শেষের কবিতা’র মঞ্চায়ন হয়েছিল। তবে ইংরেজিতে প্রযোজনা এই প্রথম। রবীন্দ্রনাথের ভাবনাকে বিশ্বজনীন করতে চেয়েছেন সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। আরও বেশি সংখ্যক দর্শক, শ্রোতার কাছে পৌঁছনোর জন্যই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম ইংরেজিতে ‘শেষের কবিতা’ পাঠ, অভিনয় করে ভালো লাগছে। সারা বিশ্ব রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীন সৃষ্টিকে জানতে পারবে।’ রাধা চক্রবর্তী ‘শেষের কবিতা’র অনুবাদ করেছিলেন। সেই অনুবাদ অনুসরণ করে এই প্রযোজনার নির্দেশনা দিয়েছেন সোহাগ সেন। চিত্রনাট্য আরও পরিশীলিত করে তুলেছেন পৌলমী বসু এবং সুজয়। আগামী ২ মে জ্ঞান মঞ্চে মঞ্চায়ন হবে ‘দ্য ফেয়ারওয়েল লেটার’। পাঠে সুজয় ও পৌলমী। অমিতের ভূমিকায় শুভায়ন সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘অমিত রে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। সব দিক থেকে এই চরিত্রটি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’ পাশাপাশি লাবণ্যর চরিত্রে শোলাঙ্কি রায়, কেটির ভূমিকায় রয়েছেন অনুষা বিশ্বনাথন। শোভনলাল ও জ্যোতি শঙ্করের ভূমিকায় দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক সোহাগ সেন। টু ডটস এন্টারটেনমেন্ট এবং এসপিসি ক্রাফ্ট-এর আয়োজনে সমগ্র পরিবেশনা সুরের মায়ায় বেহালায় বাঁধবেন সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়। মঞ্চ ভাবনার দায়িত্বে কৌশিক বসু।