বুধবার সকালে আচমকাই শোনা যায়, ভোটবঙ্গে সেন্সরশিপের গেরোয় শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়! কয়েক বছর আগের এক পুরনো মামলার জেরেই নাকি কবির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এমনকী এও রটে যায় যে, ভোটের আগেই গ্রেপ্তারির মুখে শ্রীজাত। নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্যেই এহেন পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বুধসকালে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে সরব হয়েছিল বাংলার ওয়াকিবহাল মহল। তবে খানিক পরেই কমিশন জানায়, ‘এই খবর ভুয়ো।’
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শ্রীজাতকে গ্রেপ্তারের নির্দেশের খবরে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভোটবঙ্গে বাংলায় এহেন ঘটনা নজিরবিহীন বলেই প্রতিবাদে সরব হয় একাংশ। খবর প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন সংস্কৃতিমহলের ব্যক্তিত্বরাও। এদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের তরফেই এই খবর পান শ্রীজাত। এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্লেটোর দর্শন ধার করেই শ্রীজাত জানান, “আদর্শ রাষ্ট্রে কবির কোনও জায়গা হয় না। গলা খুলে কথা বলা, মাথা তুলে কথা বলাকে সমাজে অন্যায় হিসেবেই প্রচার করা হয়। হয়তো সেই একটু বেশিই হয়ে গেছে। তার মাশুল দিতে হবে। তবে আপাতত এটুকু বলব, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সময়ও পাইনি। বিস্তারিত তথ্য না জেনে তাড়াহুড়ো করে প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না।” আগামিকাল, বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। আর ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তারই ফল হিসেবে এই পদক্ষেপ, বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল। তবে কিছুক্ষণ বাদেই কমিশনের তরফে জানানো হয় এই খবর আদতে ভুয়ো। এবার কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা বলা হল, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ও ভুয়ো খবর ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।’