• মোদির ভাষণই সার, পহেলগাঁও হামলার প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ করেনি কেন্দ্র
    আজকাল | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল তারিখটি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এর সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আজও ভারতবাসীর মনে টাটকা। ঠিক এক বছর আগে একদল জঙ্গি নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল। আজ সেই ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে স্বজনহারা পরিবারগুলোর গলায় ঝরে পড়ছে কেবল দীর্ঘশ্বাস আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির বেদনা। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সাথে আলাপকালে এই হামলায় নিহত সন্তোষ জগদালের কন্যা আসাবরী জগদালে জানান, গত একটি বছর তাঁর পরিবারের জন্য নরকযন্ত্রণার মতো ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র স্তম্ভ, যাঁর চলে যাওয়া তাঁদের জীবনকে ওলটপালট করে দিয়েছে। আসাবরীর মতোই আরও ২৫টি পরিবার গত এক বছর ধরে একই রকম শোক এবং অভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে।

    এই হামলার নৃশংসতা ছিল শিউরে ওঠার মতো। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেদিন জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের ধর্ম পরিচয় জিজ্ঞাসা করে তারপর তাঁদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছিল। প্রশান্ত কুমার শতপথি নামে উড়িষ্যার এক নিহতের স্ত্রী সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন যে, জীবন হয়তো আপন গতিতে চলছে, কিন্তু এমন একটি দিনও যায়নি যেদিন তিনি তাঁর স্বামীকে মনে করেননি। আগে যে ছোটখাটো কাজটি তিনি করতেন, এখন সংসার চালাতে সেটিই তাঁর একমাত্র সম্বল। সরকারি সাহায্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, আর্থিক সাহায্য মিললেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি চাকরি বা সন্তানের পড়াশোনার খরচ এখনও মেলেনি। অন্যান্য রাজ্যের পরিবারগুলো যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেলেও তিনি এখনও সেই আশায় দিন গুনছেন।

    পহেলগাঁও-এর এই রক্তপাতের জবাব দিতে ভারত সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। ঘটনার পরপরই ৭ মে ২০২৫ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী শুরু করে 'অপারেশন সিঁদুর'। পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি বড় জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়ে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের ১০০-র বেশি জঙ্গিকে খতম করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ড্রোন হামলা এবং গোলাবর্ষণ শুরু করলে চার দিনব্যাপী এক ভয়াবহ সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভারতীয় বাহিনী লাহোর ও গুজরানওয়ালার রাডার স্টেশনগুলোতে প্রত্যাঘাত করলে পাকিস্তান পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ১০ মে দুই দেশের সামরিক স্তরে আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়।

    আজ এই প্রথম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তারা জানিয়েছে যে, মানবিকতার সীমা লঙ্ঘন করা হলে তার জবাব হবে চূড়ান্ত এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। অপারেশন সিঁদুর ছাড়াও 'অপারেশন মহাদেব'-এর মাধ্যমে পহেলগাঁও হামলার মূল পাণ্ডাদের নিকেশ করা হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরেও ভারত সিন্ধু জল চুক্তি বাতিল এবং পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ভারত এই ট্র্যাজেডি ভুলে যায়নি এবং সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদের সাথে কোনও আপস করা হবে না। শোক আর শৌর্য—এই দুই মিলিয়েই পহেলগাঁও আজ স্মৃতির পাতায় এক অমলিন নাম।
  • Link to this news (আজকাল)