রাত পোহালেই উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষদের এখন ঘরে ফেরার তাড়া। ভোট দেওয়ার আগ্রহে নির্বাচনের একদিন আগে ব্যাপক ভিড় হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে। উত্তরবঙ্গে ফেরার বাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। তারই মধ্যে অভিযোগ, সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত ভাড়া চাইছেন বাসের চালক ও কনডাক্টররা।
বুধবার হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় এবং বাসে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। যে ভাবে হোক বাড়ি ফিরতে মরিয়া সকলে। ভিতরে আসন না মিললেও বাসের ছাদে বসে যেতেও পিছপা নন যাত্রীরা। বাসের পেটে মাছি গলারও জায়গা নেই। ছাদেও ‘ঠাঁই নাই’ অবস্থা।
এই পরিস্থিতিতে বাস চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, সাধারণ দিনে হাওড়া থেকে মেদিনীপুরের ভাড়া যেখানে কমবেশি ১২০ টাকা, সেখানে অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে মঙ্গলবার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। ঘরে ফিরতে মরিয়া ভোটাররা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই বাসে উঠছেন।
ভোট না দিলে পাছে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ যায়, এই আতঙ্কেই বাড়ি ফিরছেন বহু ভোটার। কেউ আবার প্রতিবারের মতো গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হতে চান। মরিয়া যাত্রীদের অনেকেই জানান, ভোট দেওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই যাত্রা করতে হচ্ছে। বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে বসেও বাড়ি ফিরতে চান।
এদিকে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ভোটের আগে এই বিশৃঙ্খলা পরিবহণ ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলছে।