• মন্ত্রীর আসনে ‘SIR’ কাঁটা, কৃষ্ণনগর দক্ষিণে তৃণমূল-বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন CPI (ML) লিবারেশনের প্রার্থীও
    এই সময় | ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় কৃষ্ণনগর রাজবাড়িকে কেন্দ্র করে। ২০১১ সাল থেকেই এই কেন্দ্রে জিতে আসছেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জিতেছিলেন প্রায় দশ হাজার ব্যবধানে। তবে এতদিনে জলঙ্গি নদী দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। একদিকে শাসকদলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, অন্য দিকে SIR-এর জন্য বহু মানুষের নাম বাদ যাওয়া। কী হতে চলেছে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা আসনে? হিসাব করছে সব রাজনৈতিক দলই।

    কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ১১৯৮৯টি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ২ নম্বর ব্লকে নওপাড়া ১ এবং নওপাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১৮০০ ভোটার বিচারাধীন ছিল। গত বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রে ৯ হাজারের বেশি কিছু ভোটে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে ৯ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই দুই পঞ্চায়েতে ৮০ শতাংশ নাম বাদ পড়ায় চিন্তায় শাসকদলের কপালে।

    তিন বারের জয়ী প্রার্থী উজ্জ্বল ঘোষের বিপরীতে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন সাধন ঘোষ। অন্য দিকে, এই কেন্দ্রে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী লাবণী জঙ্গিও জনপ্রিয় মুখ। এই আসনে সিপিএম ছাড়াও সিপিআই (এমএল) পৃথক প্রার্থী দেয়। এ বার এখানে প্রার্থী দেয়নি সিপিএম। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সিপিএমের ৩৮ শতাংশ ভোট ছিল এই কেন্দ্রে। ২০২১ সালে এক ধাক্কায় সেই ভোট কমে ৮ শতাংশ হয়। তবে এ বারের ভোটে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী কতটা ভোট কাটবেন, সেই অঙ্কই নির্ধারণ করতে পারে জয়ী প্রার্থীর ভাগ্য?

    তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাস অবশ্য প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করছেন বিজেপি প্রার্থীকেই। তাঁর বক্তব্য, ‘লড়াই হবে বিজেপির সঙ্গে। উন্নয়নই শেষ কথা। তাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র-২ নম্বর ব্লক ধুবুলিয়া এলাকা উদাস্ত মানুষের বসবাস। তাঁদের অধিকাংশ লোকের পাট্টা প্রদান করা হয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার কর্তৃক। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে আইটি পার্ক, ট্রান্সপোর্ট টার্মিনাল, কিষাণ মান্ডি-সহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে।

    পাল্টা বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষের দাবি, ‘প্রতিশ্রুতি সার, কোনও কাজই হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সর্ববৃহৎ টিবি হাসপাতালকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দরজা-জানলা পর্যন্ত নেই হাসপাতালের। এই হাসপাতালকে কেন্দ্র করে মানুষের রুটি রুজির ব্যবস্থা চলত। তৃণমূল জামানায় সব শেষ হয়ে গিয়েছে। মানুষ সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি।’

    তৃণমূল ও বিজেপির দ্বৈরথের মাঝে লাল ঝান্ডা নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলছেন লাবণী জঙ্গী। তাঁর কথায়, ‘রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই। হাজার হাজার যুবক বাইরে কাজে চলে গিয়েছে। উদ্বাস্তুদের জন্য বিগত ১৫ বছর কেউ ভাবেনি। প্রতিশ্রুতিই সার। নারী সুরক্ষা থেকে শুরু করে তোলাবাজি— এই সমস্ত কিছুতেই এগিয়ে বর্তমান সরকার। সময় এসেছে জবাব দেওয়ার। এ বার মানুষ পরিত্রাণ চাইছে, তাই পরিবর্তন হবেই।’

    রিপোর্টিং: নিলয় ভট্টাচার্য

  • Link to this news (এই সময়)