• ফের জ্বলছে মণিপুর! তিন বছরে কত মানুষ ঘরছাড়া, কত বাড়ি ধ্বংস? রিপোর্ট দিল কেন্দ্র
    এই সময় | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • মণিপুরের বিষ্ণুপুর এলাকায় দুই মেইতেই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে কার্ফু অমান্য করে বিশাল মশাল মিছিল করেন শ’য়ে শ’য়ে মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় পুলিশের। ২০২৩ সাল থেকে মণিপুরে কত মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে, কত মানুষের ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়েছে— বিস্তারিত তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

    ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে একটি আরটিআই (RTI) রিপোর্টে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট ৫৮,৮৮১ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ১০,০০০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে মণিপুরের কংগ্রেস নেতা হারেশ্বর গোস্বামী একটি আরটিআই (RTI) আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের জবাবে সোমবার সরকার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। গোস্বামী তাঁর আবেদনে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য চেয়েছিলেন। সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির মোট সংখ্যা সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে ওই আরটিআই-এর উত্তরে আরও জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে ৭,৮৯৪টি বাড়ি স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ২,৬৪৬টি বাড়ি আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের ১০ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১৭৪টি ত্রাণ শিবির চালু ছিল। ‘মণিপুর পুলিশ হাউজিং কর্পোরেশন (MPHC) লিমিটেড’-এর মাধ্যমে মোট ৩,০০০টি প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ত্রাণ শিবির পরিচালনার জন্য বিশেষ সহায়তা বাবদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মোট ৪২৪.৩৬ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। এ ছাড়াও বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য ঘোষিত বিশেষ প্যাকেজের জন্য মোট ৫২৩ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)