প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলায় বুধবার মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নোটিস পাঠাল নির্বাচন কমিশন (ECI)। মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের এক সভায় BJP-র সঙ্গে AIADMK দলের জোট বাঁধার সমালোচনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বেলায় কমিশনকে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিতে দেখা গেলেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে একই আদর্শ আচরণবিধি বা MCC লঙ্ঘনের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করে উঠতে পারল না কমিশন।
অথচ জাতীয় টেলিভিশন ও রেডিয়োতে প্রধানমন্ত্রীর যে ভাষণ নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেটি তিনি দিয়েছিলেন গত শনিবার। তার পরে CPI(M) ও CPI-এর মতো বিরোধী দল এবং ৭০০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট নাগরিক লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে বুধবার পর্যন্ত কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এই দুই ভিন্ন অবস্থানের প্রেক্ষিতে ফের একবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠে গেল প্রশ্ন।
তামিলনাড়ু বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন খাড়গে। পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ‘সন্ত্রস্ত’ করছেন মোদী, এই কথা বোঝাতেই তিনি ‘সন্ত্রাসবাদী’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
বুধবার পীযূষ গোয়েল, আন্নামালাই-সহ BJP-র এক প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে অভিযোগ করে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কংগ্রেস সভাপতিকে নোটিস পাঠায় কমিশন।
গত ১৮ এপ্রিল দূরদর্শন, সংসদ টিভি ও অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো-র মতো সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলকে মহিলা সংরক্ষণ বিল বলে দাবি করে সরাসরি বিরোধীদের মহিলা-বিরোধী বলে নিশানা করেছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার মতো জাতীয় মঞ্চকে ব্যবহার করে কোনও প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের আক্রমণ করেননি। ওই ভাষণের পরেই বিরোধীরা অভিযোগ করে, ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোট চলাকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা সরাসরি আদর্শ আচরণবিধির লঙ্ঘন।
১৯ এপ্রিল-ই কমিশনে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছিল CPI(M) এবং CPI। ২০ এপ্রিল প্রাক্তন আমলা, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী মিলিয়ে ৭০০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট নাগরিকও কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
খাড়গের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টায় নোটিস এবং মোদীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে নীরবতা— এই নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশনের নিরপেক্ষতা। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের সময়েও একই অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছিল কমিশন। এমনকী, গত ১২ মার্চ লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভায় ৬৩ জন সাংসদ সংসদের দুই কক্ষেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচ করার দাবি জানিয়ে নোটিস দিয়েছিলেন। সেই আবেদন খারিজ হলেও, এটিই ছিল ভারতের ইতিহাসে কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে জমা পড়া প্রথম ইমপিচমেন্ট নোটিস।