আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার সংশোধন (এসআইআর)-এর পরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল আরও ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে তাঁদের মধ্যে অনেকেই ফের অ্যাপালেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনাল ভোটের দিনের ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত যাদের নাম বৈধ বলে ঘোষণা করবে তাঁরা ভোটাধিকার পাবেন। কিন্তু চিন্তা থেকেই যায় ভোট দেওয়া যাবে তো। নাম উঠবে তো ভোটার তালিকায়। এই হয়রানির শেষ কবে? সাধারণ মানুষ শুধু নয় প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডলকেও এই ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এসইউসিআইয়ের প্রাক্তন সাংসদ বহু চিঠি চালাচালি করেও নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রর তরফ থেকে কোনও সদুত্তর পাননি। এরপরেই তিনি সরব হয়েছেন।
একটি প্রেস বিবৃতিতে তরুণ লিখেছেন, “অ্যাজুডিকেশন তালিকার বিচারের পর গত ২৮ মার্চ প্রকাশিত ‘বাতিল’ তালিকায় আমার নাম থাকার পর ওই দিনই সিইও মনোজ আগরওয়াল, কলকাতা হাইকোর্টের চিফ জাস্টিস ও লোকসভার স্পিকারের কাছে নথিপত্র-সহ ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন জমা করি। ‘স্পিড পোস্ট ও ইমেলে’। পরের দু’দিনে ভারতের রাষ্ট্রপতি, চিফ জাস্টিস, চিফ ইলেকশন কমিশনার, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নথিপত্র-সহ চিঠি পাঠানো হয় দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে। শুধুমাত্র ‘রাষ্ট্রপতির সেক্রেটারিয়েট’ থেকে আজ আমার আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকার করে জানানো হয়েছে যে ‘সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কাছে আমার আবেদন পত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যথোপযুক্ত মনোযোগের জন্য।”
প্রাক্তন সাংসদ আরও লিখেছেন, “উল্লেখ্য অনলাইনে ‘ট্রাইব্যুনালে’ গত ২৯ মার্চ আপিল করা সত্ত্বেও এখনও কোনও বিচার মেলেনি। অন্যান্য নির্দিষ্ট অফিস থেকেও আমার কাছে আজ পর্যন্ত কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। আবেদন জানানোর পর তিন সপ্তাহের অধিক সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। একজন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদের প্রাক্তন আধিকারিক ও প্রাক্তন লোকসভার সাংসদের প্রতি এই উদাসীনতা দেখালে, রাজ্যের ৩৪ লক্ষের উপর আবেদনকারীর প্রতি উপেক্ষা কতখানি, তা সহজেই অনুমেয়।”
অ্যাজুডিকেশনের আওতায় থাকা যাঁদের নাম বাদ গিয়েছিল তাঁরা অ্যাপালেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের মতে, আবেদনের সংখ্যাটি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ। তাঁদের মধ্যে হিয়ারিং হয়েছে ৯ থেকে ১০ হাজার ভোটারদের। ১৯ জন বিচারকের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল এ হিয়ারিং বা শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ২১ এপ্রিলের মধ্যে মাত্র ১৩৮ জনের নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে বৈধ ভোটারের নাম উঠেছে ১৩৬ জনের এবং দুজনের নাম বাদ গিয়েছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর। অর্থাৎ, ২৩ এপ্রিলের ভোটার তালিকায় মাত্র ১৩৬ জনের নাম যোগ করা হয়েছে। বাকিদের ভবিষ্যৎ কী জানেন না কেউ।