ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও রকম ঢিলেমি না দেখাতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে রাজ্যজুড়ে একটি বিশেষ ‘দুষ্কৃতী তালিকা’ তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২১ এপ্রিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশকের কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘অ্যানেক্স এ’, যেখানে জেলা ও বিধানসভাভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম, যাঁদের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়া বা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
কমিশন সূত্রে দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগ, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা বুথ এলাকায় প্রভাব খাটানো, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই তালিকা তৈরি করেছে।
চিঠিতে পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে এফআইআর দায়ের, প্রতিরোধমূলক আটক, স্পর্শকাতর বুথ এলাকায় অতিরিক্ত টহল এবং নির্বাচনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর কড়া নজরদারি। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে ওইসব এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
নির্দেশিকায় দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, যদি তালিকাভুক্ত কোনও ব্যক্তি ভোটারদের হুমকি দেন বা নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করেন, তবে তার দায় সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ আধিকারিকদের উপরেও বর্তাবে। জেলা পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে থানার ওসি এবং এসডিপিও—সব স্তরের আধিকারিকদের এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলা ইতিমধ্যেই এই তালিকা ঘিরে বিশেষ নজরে এসেছে। মেখলিগঞ্জ, দিনহাটা, মথাভাঙ্গা, সিতাই, শীতলকুচি-সহ একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে এই তালিকায়। প্রশাসনিক মহলের মতে, এইসব এলাকাকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারি চালানো হবে।
এদিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি জেলা ও পুলিশ কমিশনারেটকে প্রতিদিন রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কোথায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, কোনও নতুন অভিযোগ উঠল কি না—সব কিছু নিয়মিতভাবে জানাতে হবে। কমিশনের একাধিক পর্যবেক্ষকও এই গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।