• পহেলগাম এবং মণিপুরের প্রসঙ্গ তুলে বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে কটাক্ষ মমতার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত সাঁজোয়া গাড়ি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ভোটের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি রাজনৈতিক পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী তরজা জোরদার হয়ে উঠেছে।

    নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী যেখানে এই সাঁজোয়া গাড়ির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন, সেখানে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছে। হুগলির হরিপালে এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  কেন্দ্র সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘পহেলগামে জঙ্গিরা আমাদের মেরে যায়, মোদীবাবু পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারেন না। আর বাংলায় ভোটের জন্য সাঁজোয়া গাড়ি এনেছে! কীসে লাগে? পহেলগামের সময় সাঁজোয়া গাড়ি কোথায় ছিল?’

    তাঁর বক্তব্য, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে  এমন সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন, সেখানে তা ব্যবহার না করে বাংলার নির্বাচনে তা প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি মণিপুরের পরিস্থিতির উল্লেখ করে কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন। গত তিন বছর ধরে মণিপুরে শান্তি নেই, সেখানে গাড়ি না পাঠিয়ে বাংলায় পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

    এ দিন মমতা দাবি করেন, দিল্লি থেকে ২ লক্ষ পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়েছে বাংলার ভোটের জন্য। তাঁর কথায়, ‘আমাদের পুলিশ ওদের সাথী হয়েছে। কারণ ওরা আমাকে এখন চেনে না। ওরা বিজেপিকে চেনে। শুধু রাফাল বিমান ছাড়া সব নামিয়েছে। যুদ্ধের সাঁজোয়া গাড়ি এখানে! মানুষকে এত ভয় কেন? সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছ কেন, গুলি চালাবে? মানুষকে হত্যা করবে? ভোট গণতন্ত্রের উৎসব।’

    বুধবারই আমডাঙার অন্য আরেকটি নির্বাচনী সভা থেকে কোলাঘাটের রাস্তা বন্ধ নিয়ে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার থেকেই কোলাঘাটে যাবতীয় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম—কেউই সেখানে যেতে পারছেন না। এমনকি বাইক চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁরা ভোট দিতে নিজেদের এলাকায় ফিরবেন কীভাবে, যদি এভাবে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘এবারের নির্বাচন গণতন্ত্রের এক বড় লড়াই, যেখানে প্রতিটি ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।‘

    এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও সতর্ক করেন। তিনি আইএএস, আইপিএস এবং রাজ্য প্রশাসনিক পরিষেবার আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন এবং কোনও প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করা করবেন না। তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূলকে শুধু টার্গেট করবেন। বিজেপির সব চেয়ে বড় ক্রিমিনাল গদ্দার রাকেশ সিং এদের কেন গ্রেপ্তার করা হবে না?’

    এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের জন্য একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রায় এক হাজার মানুষের নাম রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯ হাজার মানুষকে হজে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে তিনি বলেন, যাঁরা হজে যেতে চান, তাঁদের জন্য হজ কমিটি রয়েছে, তবে ভোট দেওয়ার বিষয়টি যেন কেউ ভুলে না যান।

    ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভোটারদের যথাযথভাবে স্লিপ দেওয়া হচ্ছে না। ১০০ জনের নাম উঠলে ২৫ জনকে বিএলওদের স্লিপ দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা যুক্ত করে নিজেদের উদ্যোগে ভোটারদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিন।



  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)