বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও এক দফায় হবে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বাংলায় ২০২১ সালের নির্বাচনে শূন্য হয়ে গিয়েছিল বামেরা। তবে দক্ষিণের এই রাজ্যে দু’টি করে আসন জিতেছিল দুই বাম দল— CPI ও CPI-M। এ বার পশ্চিমবঙ্গে খাতা খোলার বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী তারা। তামিলনাড়ুতে কী অবস্থা লাল পতাকার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দাক্ষিণাত্যের মেগা ফাইটে DMK-র হাত ধরেই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাতে হবে বামেদের।
গত বার দুই বাম দল তামিলনাড়ুতে ছ’টি করে আসনে লড়াই করেছিল। এ বার DMK-র নেতৃত্বাধীন SPA জোটের অংশ হিসেবে ৫টি করে আসনে লড়ছে CPI ও CPI(M)। BJP-কে আটকানোর স্বার্থেই গতবারের চেয়ে একটি করে আসন কম নিয়েও তারা জোটে রয়ে গিয়েছে। বস্তুত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, DMK-র সঙ্গে জোটে না থাকলে এই রাজ্যে বামেদের পক্ষে একটিও আসন জেতা কঠিন।
২০২১-এ থল্লি এবং থিরুথুরাইপুন্ডি আসন থেকে জিতেছিলেন যথাক্রমে CPI প্রার্থী টি রামচন্দ্রন এবং কে মারিমুথু। জয়ী বিধায়কদেরই প্রার্থী করেছে তারা।
অন্যদিকে, ২০২১-এ CPI(M) প্রার্থী ভি পি নাগাইমালি জিতেছিলেন কিলভেলুর আসন থেকে আর গন্ধর্বকোট্টাই আসনে জিতেছিলেন এম চিন্নাদুরাই। চিন্নাদুরাইকে ফের একই আসন থেকে প্রার্থী করা হলেও কিলভেলুর আসনের গত দুইবারের বিজয়ী বিধায়ক নাগামালাইয়ের বদলে ওই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে ডি লতাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুতে বামেদের শক্তি অত্যন্ত সীমিত এবং নির্দিষ্ট কিছু পকেটে কেন্দ্রীভূত। মূলত গ্রামীণ, কৃষক এবং দলিত অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই তাদের ভোট রয়েছে। এবারও বামেরা যে ১০টি আসনে লড়ছে, তার মধ্যে অন্তত ৫টি আসনই তফশিলি জাতি বা SC সংরক্ষিত।
তা হলে তামিলনাড়ুতে এ বার বামেদের ফল কেমন হবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সবটাই নির্ভর করছে হাওয়া কোনদিকে থাকে তার উপরে। যদি ভোটে DMK জোটের অনুকূলে হাওয়া থাতে, তবে দক্ষিণের এই রাজ্যে বামেরা অন্তত ২ থেকে ৪টি আসন ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।